বড় ধরনের সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান :যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, খুব শিগগিরই উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ব্যাপক সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প সরকারের দু’জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সেদেশের গণমাধ্যমে একথা বলেছেন। তারা বলেছেন, এটা হয়তো বার্ষিক মহড়ার অংশ। কিন্তু এটি যুক্তরাষ্ট্রেরর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়াবে।

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে আসা ও তেহরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে দু’দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয় সম্প্রতি। ইরানের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারাও অবশ্য দেশটির তেল রফতানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলো।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডও সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেছে, ইরান সামরিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র বিল আরবান বলেন, আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর ব্যাপারে আমরা নজরদারি করছি। আমরাও এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা সূক্ষ্মভাবে এ ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথ সুরক্ষায় কাজ করে চরেছি।  ইতিপূর্বে ইরান ১০০ এর বেশি জাহাজ নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মহড়া দিয়েছে, এমন অভিযোগ করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা।

পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ঘটনায় বেশ কিছুদিন ধরে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসছে ইরান। সমপ্রতি উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে উত্তেজিত কথার লড়াই বিশ্ব গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের উদ্দেশে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার পরিণাম শুভ হবে না। জবাবে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে আক্রান্ত হলে তারাও বসে থাকবে এমনটি ভাবার কারণ নেই। এছাড়া তাদের তেল রফতানিতে বাধা দেওয়ার কোনও পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।

উদ্ভত পরিস্থিতি ইরানের বড় ধরনের সামরিক মহড়ার প্রস্তুতির কথা জানাল ওয়াশিংটন। মার্কিন সেনাবাহিনী বলেছে, তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরান যদি সামরিক মহড়া চালায় তবে এই প্রণালী অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। এদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য কর্মকাণ্ড তদারকি করা সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবহিত। আমরা ঘনিষ্ঠভাবে এতে নজর রাখছি। আন্তর্জাতিক জলপথ অচল করার অধিকার কারো নেই। বাণিজ্যের প্রবাহ ও মুক্ত নৌ চলাচল অব্যাহত রাখতে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রেখেছি।

এদিকে, ইরানের মহড়া সম্পর্কে গণমাধ্যমকে পুরো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের সেনাবাহিনী মহড়ার জন্য শতাধিক যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত করেছে। এতে শতাধিক পদাতিক সেনাও যুক্ত থাকবে।

ইত্তেফাক/নূহু