পরিত্যক্ত গাড়ির ভাগাড় হতে যাচ্ছে আফ্রিকা!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ২০১৬ সালে শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মারা যায় পাঁচ বছরের কম বয়সি ১৫ হাজার শিশু। কিন্তু এই দূষণের জন্য দায়ী যে গাড়িগুলো, সেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। 
 
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কার্বন নির্গমন বিষয়ে কড়াকড়ি হওয়ার পর শুরু হয় আফ্রিকায় রপ্তানি। আফ্রিকার ২৫ দেশে ব্যবহৃত গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে বাজার ঠিকই সয়লাব হচ্ছে ২৫ বছরেরও পুরনো গাড়িতে।
 
নতুন দিল্লির সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানভায়রনমেন্ট এক প্রতিবেদনে বলছে, জার্মানি এবং চীন ১৪ শতাংশ এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ করে গাড়ি রপ্তানি করে আফ্রিকায়।
 
আফ্রিকার শহরগুলোতে জনসংখ্যা বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে গাড়ির চাহিদাও। কিন্তু স্বল্প ক্রয়ক্ষমতা, সরকারের নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং জ্বালানির নিম্নমানের কারণে এসব বাতিল গাড়ি খুব সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে আফ্রিকায়।
 
২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ফক্সভাগন ১ কোটিরও বেশি গাড়ি বিশ্বব্যাপী বিক্রি করেছে। ইউরোপে কড়াকড়ির ফলে এ সব পুরনো গাড়ির বিক্রি কমে যাওয়ায় এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে পূর্ব ইউরোপ ও আফ্রিকায়।
 
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক প্রোগ্রাম- ইউএনইপির কর্মকর্তা জানে আকুমু জানিয়েছেন, আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশেই কার্বন নির্গমন সীমা নির্ধারণ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং উন্নত জ্বালানির অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যে ইউরো-৪ স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দেয়া হয়েছিল, সেটিই বেশিরভাগ দেশ এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি৷
 
জ্বালানিতে অতিরিক্ত সালফারের উপস্থিতিও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশে ২,৫০০ থেকে ১০,০০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) লেভেলের সালফার ব্যবহার করা হয়। ডয়চে ভেলে।
 
ইত্তেফাক/এমআই