বগুড়ায় ফিটনেসবিহীন আড়াই হাজার যানবাহন

প্রতি বছর যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন করার নিয়ম থাকলেও বগুড়ায় ১০ বছরেও আড়াই হাজার যানবাহন ফিটনেস নবায়ন না করেই চলাচল করছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যানবাহন, তেমনি সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
 
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) বগুড়া অফিসের সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় বিভিন্ন ধরনের ১৫ হাজার ৭৪৭টি যানবাহন রয়েছে। এসব যানবাহনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বাস ও ট্রাক রয়েছে ৬ হাজার ১২৯টি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে ৫ হাজার ৫৫৮টি। লাইসেন্সধারী পেশাদার চালকের সংখ্যা ৩২ হাজার ৫০২ জন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি পাঁচ বছর পর লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম থাকলেও সিংহভাগ চালক তা করেন না। চলতি বছরের ৩ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ৮১২জন চালক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছেন। 
 
সূত্র জানায়, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ২ হাজার ৯০২টি যানবাহন তাদের ফিটনেস নবায়ন করেনি। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২৭টি বেসরকারি অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন। বাকি ১৩০টি সরকারি যানবাহন। ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন একদিকে যেমন দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তেমনি সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ট্যাক্স টোকেনসহ আনুষঙ্গিক ফি পরিশোধ করে যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন করতে হয়।
 
দশ বছর ধরে ফিটনেস সনদ না নেওয়া যানবাহনের তালিকায় প্রায় ৪৬ শতাংশই গণপরিবহণে নিয়োজিত বাস-মিনিবাসসহ অন্য যানবাহন। এর মধ্যে বড় বাসের সংখ্যা ৩৮৪টি এবং মিনিবাস রয়েছে ২০৫টি। এছাড়া ৩৪৬টি অটো টেম্পু, ভাড়ায় চালিত ২৯টি মাইক্রোবাস, ১৭৯টি প্রাইভেট মাইক্রোবাস ও ১৯৭টি মোটর কারেরও ফিটনেস সনদ ১০ বছর ধরে নবায়ন করা হয় না। ওই তালিকায় সরকারি ৬টি মিনিবাসও রয়েছে। এছাড়া ফিটনেস নবায়ন ছাড়াই পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক এবং পিক-আপ চলাচল করছে আরও ১ হাজার ১২৯টি। তালিকায় ১১৩টি জীপ, ৭৩টি অটোরিকশা এবং ১২৩টি ট্রাক্টরও রয়েছে।
 
বগুড়া বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ফিটনেস নবায়নের অনুরোধ এবং বারবার তাগাদা দেওয়ার পাশাপাশি মাঝেমাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তারা পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ম মানতে ‘বাধ্য’ করানোর জন্য বিভিন্ন সময় চেষ্টা চালানো হয়েছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ফিটনেস সনদ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হলেও তা কেউ গ্রহণ করেনি। ফিটনেস সনদ নবায়নের জন্য যানবাহন মালিকদের সম্প্রতি নতুন করে আবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। গেল জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে চিঠি দেওয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রোববার ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হওয়ায় কর্মকর্তারা এবার ফিটনেস সনদ নবায়নের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। 
 
বিআরটিএ বগুড়া অফিসের পরিদর্শক ফয়েজ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুলাই মাস থেকে আমরা প্রতি সপ্তাহে যানবাহনের ফিটনেস নবায়নের চিঠি দিচ্ছি। কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। দুই হাজারেরও বেশি যানবাহন ফিটনেস নবায়ন করেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। প্রায় একমাস ধরে চিঠি দিয়ে মাত্র দুইজন নবায়ন করেছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু