চরভদ্রাসনে পদ্মার ভাঙনে নতুন করে ৮বাড়ি বিলীন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের বালিয়াডাঙ্গী ও ফাজেলখারডাঙ্গীতে নতুন করে গত দুইদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াল রুপ ধারণ করেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৮টি বসত বাড়ি,২০বিঘা ফসলী জমি ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গাছপালা।
 
মঙ্গলবার এলাকা ঘুরে দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কেউ আত্মীয়ের বাড়ি আবার কেউ সরকারি রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। এ দিকে ভাঙন এলাকা হতে মাত্র ৩ মিটার দূরে চরম ঝুঁকিতে থাকা ফাজেলখারডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিয়াডাঙ্গীর একটি মসজিদ যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। পাশাপাশি এমপিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোল্যাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবনির্মিত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, কয়েকটি মসজিদ, পাকা সড়ক ও বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
 
এ দিকে ভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার ও উপজেলা চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক খোঁজ খবর নেন।
 
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট উর্ধতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগের ডাম্পিং কাজ চলছে। গত দুই সপ্তাহ এ সকল এলাকায় নদী ভাঙন না থাকলেও হঠাৎ করে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে নতুন করে ফাজেলখারডাঙ্গী ও বালিয়াডাঙ্গীতে ভাঙন শুরু হয়েছে।
 
ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতিমধ্যে চরভদ্রাসনে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে এমপিডাঙ্গী, ফাজেলখারডাঙ্গী ও বালিয়াডাঙ্গীতে জিও ব্যাগের ডাম্পিং কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আজ মঙ্গলবার দীর্ঘ প্রতিক্ষিত চরভদ্রাসন নদী ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধের ২৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন হয়েছে। নতুন করে চরভদ্রাসনে যে সকল স্থানে নদী ভাঙছে সেখানে সাধ্যমত জিও ব্যাগের ডাম্পিং করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড’।
 
দুদিনে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, বালিয়াডাঙ্গীর রাজ্জাক মোল্লা, হানিফ মোল্লা, ইসাহাক মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা, জয়নাল মোল্লা, মুনসর মোল্লা, আলমগীর সিকদার ও আলামীন সিকদার। 
 
ইত্তেফাক/নূহু