বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-২০১৯) দেশের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-২০১৯ অর্থরছরের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য রফতানি খাতে ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা রফতানি খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর পণ্য ও সেবা খাতের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্জিত হয়েছে ৪০ দশমিক ৯৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে গত বছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। রফতানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে দেশের মোট রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর পণ্য খাতে রফতানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩৬ ভাগ এবং সেবা খাতে ৭ দশমিক ৪৩ ভাগ। মোট রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ ভাগ।
তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে ২৭টি পণ্য রফতানি খাতে বিভিন্ন হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এবার আরো ৯টি পণ্য রফতানিতে দশ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্যগুলো হলো, হিমায়িত সফটসেল কাঁকড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য ও ঔষধের কাঁচামাল, সিরামিক দ্রব্য, গালভানাইজড সিট বা কয়েলস, ফটোভলটাইক মডুল, রেজার ও রেজার ব্রেডস, ক্লোরিন, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কস্টিক সোডা এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। এর ফলে আগামীতে দেশের রপ্তানি কারকগণ পণ্য রপ্তানিতে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের রফতানির সিংহ ভাগ আসে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে গত অর্থ বছর ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। রফতানি হয়েছে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবছর তৈরি পোশাক রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে এ রপ্তানির পরিমান দাড়াঁবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রফতানিতে আগে ৩ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হতো। এখন আরো একভাগ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে।
সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রফতানি বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, ব্যবসায়িক জটিলতা নিরসন ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্থল ও সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার দাবি জানান।
ইত্তেফাক/কেকে