ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মূল্যবান কাঠ জাতীয় গাছ মারা যাচ্ছে। রাস্তার ধারে ইতিপূর্বে শতাধিক গাছ শুকিয়ে মারা গেছে। এসব গাছ আনুমানিক ৩৫/৪০ বছর পূর্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে মহাসড়কের দুইপাশে লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে সড়কের দুইপাশে শুকনো গাছগুলো সরিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
সড়কের পাশের গাছগুলো কি কারণে কিংবা কি রোগে মারা যাচ্ছে তা কেউ সঠিকভাবে জানাতে পারেনি। গাছগুলোর সংরক্ষনে কর্তৃপক্ষও চরম উদাসীন!
জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের আওতায় সওজ ও বন বিভাগের উদ্যোগে আমিনবাজারের পর থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো লাগানো হয়েছিল মহাসড়কের দুইপাশে। মহাসড়কের সৌন্দর্য্যবর্ধন ছাড়াও দুর্ঘটনা রোধের লক্ষ্যে এ গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। প্রায় ২০ বছর পূর্বে অজ্ঞাত রোগে কয়েকটি গাছ মরতে শুরু করে। দেখা গেছে প্রথমে গাছের পাতা শুকাতে শুরু করে ধীরে ধীরে গাছের সব ডালপালা মরে পুরো গাছটিই মরে যায়। বর্তমানে সারিবদ্ধভাবে গাছগুলো মরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথম দিকে যখন কিছু কিছু গাছ মরতে শুরু হয়েছিল তখন রাতের অন্ধকারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শ্রেণির অসৎ কর্মচারী কাঠ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এই মরা গাছগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যেত। এ মরা গাছগুলো আশপাশের ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মরা গাছের পরিমান দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় এখন আর তা কাটা হচ্ছে না। মরা অবস্থায়ই তা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সামাজিক আন্দোলনকারী আজম খান বাবু বলেন, ক্রমাগত পরিবেশ দূষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে এ গাছ গুলো মারা যেতে পারে।
কৃষিবিদ ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সড়কের পাশে যে গাছগুলো মরে শুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তা অবশ্যই কোন রোগের কারণে। কৃষি অধিদপ্তরের উচিত গাছ গুলোর মারা যাওয়ার কারণ পরীক্ষা করে খুঁজে বের করা।
আরবারি কালচার গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা কাজী আবু সাঈদ বলেন, গাছের গোড়ায় পানি জমা কিংবা গোড়ায় ময়লা আবর্জনার ফেলার কারণে তা পঁচে গ্যাসের বিষক্রিয়ার ফলে গাছ মারা যেতে পারে।
ইত্তেফাক/নূহু