আইএসের উত্থানের পর নানা গ্রুপিং দেখা দেয় জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবিতে। একদিকে গ্রুপিং অন্যদিকে পুলিশের নজরদারি- এই দুই কারণে বাংলাদেশে ফেরার সাহস পায়নি জেএমবি নেতা জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান। তাই ভারতেই জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিল সে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর আনন্দবাজারের।
মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ জেএমবি নেতা বোমারু মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলামকে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের পর গত দু’বছরে জেএমবি সংগঠন নতুন করে তৈরি করছিল মিজান। মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক যুবককে সে এই নতুন সংগঠনে নিয়োগ করে। ওই নয়া জেএমবি বিভিন্ন মডিউলকে কাজে লাগিয়ে বুদ্ধগয়াতে বড়সড় হামলার ছক করেছিল মিজান।
জেএমবি-র অন্য এক শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন সাহেলিনের নেতৃত্বে ভারতে বসে নতুন ভাবে সংগঠন তৈরি করা শুরু করে মিজান। সঙ্গে ছিল খাগড়াগড়ের পর গা-ঢাকা দেওয়া তার কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
IMG0
ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ’র এক কর্মকর্তা আনন্দবাজারকে বলেন, ‘বুদ্ধ গয়াতে মিজানের হামলা করার কারণ দু’টি। প্রথমত, হামলা করলে তার সংগঠন সারা ভারতে নজরে আসবে। জিহাদি মনোভাবাপন্ন মানুষদের কাছে তার সংগঠনের গুরুত্ব বাড়বে। দ্বিতীয়ত, দালাইলামার সফরের সময়ে এই হামলা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা। গোটা ভারতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তাদের সংগঠনে যুক্ত করা সহজ হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশেও শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রভাব বাড়িয়ে ফের বাংলাদেশে নিজের সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ছিল মিজানের।’
ইত্তেফাক/টিএস