বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) দুই কর্মকর্তা ও বগুড়ার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ক্ষতি সাধন ও নিজেরা লাভবান হওয়ার অভিযোগ এনে বুধবার দুর্নীতি দমন বগুড়া কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামীরা হলেন- বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ঢাকার সাবেক উপ-পরিচালক (বাণিজ্যিক পরিচালন) এ এইচ এম তছলিম হোসেন, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক পরিচালন) বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ঢাকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বগুড়া কটন স্পিনিং মিলস কোম্পানি লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারি মো. তৌফিকুর রহমান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়া কটন স্পিনিং মিলস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ১৯৬৮ সালের ১২ নভেম্বর বগুড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৩২ হাজার টাকা জামানত রেখে বিদ্যুতের সংযোগ গ্রহণ করে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বগুড়া কটন স্পিনিং মিলের কোন বকেয়া ছিল না। পরবর্তীতে গ্রাহক অনিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে বকেয়ার দায়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ১৯৯১ সালের মে মাসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং ১৯৯৩ সালের মার্চ থেকে গ্রাহকের অনুকুলে মিনিমাম বিল জারি করেন। পরবর্তীতে গ্রাহকের অনুকুলে আর কোন বিল জারি করা হয়নি। বিদ্যুতের মূল্যহার ও নিয়মানুযায়ী বিলম্বিত সময়ের জন্য মোট বিলের উপর মাসিক শতকরা ২ টাকা সরল সুদে সারচার্য দিতে হবে। সে অনুযায়ী ২০০২ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া আসল ৫২ লাখ ১৬ হাজার টাকা ও সারচার্জ ২ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সহ মোট ২ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আদালত বগুড়ায় ২০০৮ সালে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে বগুড়া কটন স্পিনিং মিলের পরিচালক তৌফিকুর রহমান বিদ্যুৎ বিভাগের চেয়ারম্যান ও মহাব্যবস্থাপক ঢাকা বরাবর বিদুৎ বিল সংশোধনের জন্য ২০১১ সালে আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। কমিটি তদন্ত করে গ্রাহকের নিকট ১৯৮৫ হতে ১৯৯১ পর্যন্ত ডিমান্ড চার্জ ২ লাখ ৮ হাজার টাকাসহ ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ও সারচার্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা মিলে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায়যোগ্য বলে মত দেয়। সাবেক উপ-পরিচালক এএইচ এম তসলিম হোসেন কমিটির সুপারিশকৃত সারচার্জ ১ কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকার বিষয়টি অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করে শুধু আসল ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকার মধ্যে ডিমান্ড চার্জ ২ লাখ ৮ হাজার টাকা ও জামানত ৩২ হাজার টাকা সমন্বয় করে নীট আসল ২২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আদায়ের সিদ্ধান্তসহ সংশোধিত বিল ইস্যূ করেন। উক্ত সিদ্ধান্ত মো মোস্তাফিজুর রহমান একমত পোষন করে সিদ্ধান্ত নোটে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে মোস্তাফিজুর রহমান নিজেই মহাব্যবস্থাপকের পক্ষে উক্ত সিদ্ধান্তের সাথে নোটে স্বাক্ষর করেন। এতে আসামীরা একে অপরের যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে সরকারি ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।
মামলার তথ্য নিশ্চিত কওে দুদকের বগুড়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন,এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি