পঞ্চগড়ে লো ভোল্টেজ ও লোডশেডিংএ নাকাল সাধারণ মানুষ। অসহনীয় এ অবস্থায় একদিকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অন্যদিকে টিভি ফ্রিজ, ফ্যানসহ ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমেও লো ভোল্টেজের কারণে ফ্যান তো ঘুরছেই না, কোন কোন এলাকায় বাতিও জ্বলছে না। সব মিলে শিশুসহ সববয়সী মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। দিনের বেলায় ঘরেই থাকা যায় না। শিক্ষার্থীরা রাতের বেলায় পড়তে পারছে না।
গত কয়েক মাস ধরে এই অবস্থা চললেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নানা অযুহাত দেখিয়ে আসছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে নানা অযুহাত আর টালবাহানা করলেও বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাতপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার কয়েক শতাধিক মহিলা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পঞ্চগড় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ওই কার্যালয়ের প্রধান ফটকেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবিরকে সরেজমিনে লো ভোল্টেজ এলাকা পরিদর্শনে বাধ্য করে ক্ষুব্ধ গ্রহকরা। জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকায় লো ভোল্টেজ পরিদর্শন করে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে কিছুটা শান্ত হয় গ্রাহকরা।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সদস্য আকতারুন্নাহার সাকী জানান, লো-ভোল্টেজ এবং ভোল্টেজ উঠানামার কারণে টিভি, ফ্রিজসহ ইলেকট্রোনিক অনেক পণ্যই নষ্ট হয়ে গেছে।
নেসকোর পঞ্চগড় নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির জানান, বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লো ভোল্টেজ দেখা দিচ্ছে। পঞ্চগড় জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট। কিন্তু আমরা পাচ্ছি ১০ থেকে সাড়ে ১০ মেগাওয়াট। এজন্য লোডসেডিং হচ্ছে। এটা কেবল পঞ্চগড়ের সমস্যা না সব জায়গায় একই অবস্থা। তবে আশা করি এই সমস্যা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/কেআই