বালুবাহী ট্রাকের ভারে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার শৈলমারী ওয়াপদা বেড়িবাঁধের দু’ কিলোমিটার সড়ক বেহাল। অবৈধ একাধিক বালু বেড (বালু রাখার স্থান) থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক চলাচল করায় কৈয়া বাজার থেকে শৈলমারি ট্রলার ঘাট পর্যন্ত সড়কটি মানুষ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল পার্শ্ববর্তী আটটি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হালকা যানবাহন এবং উল্লিখিত সড়ক লাগোয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রূপসাসহ বিভিন্ন বালু মহল থেকে উত্তোলিত বালু নৌযানে করে শৈলমারী ট্রলার ঘাটে আনলোড করা হয়। এরপর সেখান থেকে বালু ব্যবসায়ীরা স্ব স্ব বেডে নিয়ে বালু বিক্রি করে থাকে। মূল সড়কের ওপর ভারী ট্রাক রেখে স্কেভেটর দিয়ে বালু লোড করায় সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল পার্শ্ববর্তী হোগলবুনিয়া, ছয়ঘরিয়া, বদনাখালি, হাটবাড়ি, দশ শৈলমারি, পাথুরিঘাটা, জয়পুর ও শৈলমারি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া উত্তর শৈলমারি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেড নামক একটি ওষুধ কোম্পানির যানবাহন চলাচলও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
১০৮ নম্বর উত্তর শৈলমারি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার বৈরাগী ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভানেত্রী রেক্সোনা বেগমসহ ৭০জন গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের ওপর অবৈধভাবে বালু ব্যবসার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাদের নাকে-মুখে বালু ঢুকে শ্বাস কষ্ট দেখা দিচ্ছে। ট্রাক চলাচলের সময় বালু উড়ে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। ফলে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে ট্রাক চলাচলের কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য সড়কে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয় আবেদনে।
শৈলমারী পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাধারণ সম্পাদক হরিপদ মল্লিক বলেন, সড়কটি দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় আটটি গ্রামের মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন। এমনকি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও সড়ক দিয়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স, ভ্যান বা অন্য কোনো হালকা যানবাহন ব্যবহার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীকে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
বালু ব্যবসায়ী, বেড মালিক সত্যজিত্ চন্দ্র চন্দ বলেন, তিনি অল্প কিছুদিন ব্যবসা করছেন। ট্রাক চলাচলের কারণে বর্ষার সময় একটু সমস্যা হয়। তবে, সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের জন্য এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করা হয়েছে।
জলমা ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, বালুর ট্রাকের কারণে সড়কটির এ অবস্থা হয়েছে। বিষয়টি তিনি তিন মাস আগে উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তবে, পরিষদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বালু বেড মালিকদের নোটিস করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল করায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে, বিষয়টি তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/নূহু