ভিক্ষা কিংবা মানুষকে বিরক্ত করে নয়, অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায় রংপুরের হিজড়ারা। চায় অন্য সবার মতো উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে। আর তাদের এই চাওয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এগিয়ে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর রংপুর। এ লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রমও শুরু করেছে তারা। রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভাতা প্রদানের পাশাপাশি কার্যক্রমের মধ্যে আছে সেলাই, কম্পিউটার, বিউটি পার্লার ও রান্না বিষয়ক প্রশিক্ষণ।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলাম (১৯) এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। কিন্তু স্বভাবে হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে। তবে হিজড়াদের মধ্যে যারা চাঁদাবাজি করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের সমর্থন করে না রাশেদুল। তাই স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসেছেন তিনি।
IMG0
রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ বানুপাড়ার আলমগীর হোসেনের মেয়ে আঁখি মনি (১৪)। সে বানুপাড়া পাটোয়ারীটারী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু চালচলন কথাবার্তায় অন্য দশজন থেকে আলাদা। সে উচ্ছৃঙ্খল হিজড়াদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করে। সে নিজের উপার্জিত আয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়। এ কারণে রাশেদুল কিংবা আঁখির মতো অনেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি উপার্জনমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পরিচালিত হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। ভাতা প্রদানের পাশাপাশি কার্যক্রমের মধ্যে আছে সেলাই, কম্পিউটার, বিউটি পার্লার ও রান্না বিষয়ক প্রশিক্ষণ। রংপুর জেলায় মোট হিজড়ার সংখ্যা ৩৭০। এ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ জনকে ৬০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
IMG1
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরাম’ রংপুর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম পিয়াল বলেন, কতিপয় হিজড়ার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেক কমবে। তবে কার্যক্রমগুলো যুগোপযোগী হতে হবে বলে জানান।
রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্ত করে হিজড়াদের স্বাবলম্বী করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।’
ইত্তেফাক/বিএএফ