শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি সার্ভিস বন্ধ

*আগামী ১৫ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ায় ভিআইপিদের ফেরি পারাপার এক রকম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
* ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা পড়বে দুর্ভোগে।
* অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে আরিচা-দৌলতদিয়া ঘাটে।

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার বলে পরিচিত ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে এ সার্ভিস বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। এতে আগামী ১৫ আগস্ট উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় ভিআইপিদের ফেরি পারাপার এক রকম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ফেরি পারাপার বন্ধ থাকলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ খালেদ নেওয়াজ জানিয়েছেন, চ্যানেলে যেখানে ফেরি চলতে পানি লাগে ৭ থেকে ৮ ফিট, সেখানে পানি রয়েছে মাত্র ৫ ফিট। তাই বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে বিআইডব্লিউটিএ এই চ্যানেলে ড্রেজিং করছিল। তারপরও নাব্যতা সংকট থেকেই গেছে। এছাড়া আমরা গাড়িগুলোকে বিকল্প পথে যেতে অনুরোধ করছি। এই রুটে কমপক্ষে গড়ে ৩ হাজার গাড়ি দৈনিক পার হয়। এখন এই চাপ পড়বে পাটুরিয়া ঘাটে। আমরা তিনটি রোরো ফেরিসহ ৪টি ফেরি শিমুলিয়া থেকে পাটুরিয়ায় পাঠাচ্ছি। কবে নাগাদ ড্রেজিং শেষ করে ফেরি সার্ভিস সচল করতে পারবো এ ব্যাপারে বোঝা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন বেশ কিছু দিন ধরে নৌরুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখে একটি ডুবো চরের সৃষ্টি হয়। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে ক্রমাগত পলি পড়ে ডুবোচরটি দিন দিন বড় হতে থাকে। এতে চ্যানেলের মুখে ডুবোচরের কারণে ফেরি চালকরা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতো। ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকতো। ডুবোচরে আটকে ফেরির প্রপেলারসহ ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। বিআইডব্লিউটিএ-কে বিষয়টি অবহিত করলে তারা গত বছরের একটি চ্যানেল খুলে দেয়। ফেরিগুলো ওয়ান ওয়ে পদ্ধতিতে চলছিল। কিন্তু লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখে ড্রেজার লাগিয়ে পলি অপসারণ করলেও মূলত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নাব্যতা সংকটের কারণে শনিবার ফেরিগুলো চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকার সৃষ্টি হয়। তাই দুপুরের দিকে ফেরি সার্ভিস সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।  বিকেলে ড্রেজিংয়ের পর ড্রেজারটি সরিয়ে নিলে সে পথে ফেরি সার্ভিস আবারো চালু করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফেরি পাড়ি দিতে পারেনি ডুবো চরের ওই অংশে। ড্রেজিং করার পর সেখানে পানি রয়েছে সর্বনিম্ন সাড়ে চার ফিট। অথচ একটি রো রো ফেরি চলাচলে পানির গভীরতা প্রয়োজন সাড়ে ৭ থেকে ৮ ফিট। তাই বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ঘাটে আটকা পড়েছে পণ্যবাহী ট্রাকসহ ৫ শতাধিক যানবাহন।

মাওয়া ট্রাফিকের টিআই সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঘাট মোটামোটি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বিকেলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হতে যানজট দেখা দিয়েছে। ঘাটে গাড়ির সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এখানে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেজিং) এএসএম আরিফিন শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, এখানে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের নিয়ে নদীতে পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। তবে নদীতে ভাটি থাকায় পানির মাত্রা কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। জোয়ার এলেই তা ঠিক হয়ে যাবে। তাছাড়া পদ্মায় এখন প্রচুর স্রোত। ড্রেজিং করার পর পলি পরে আবারো ভরাট হয়ে যাচ্ছে ড্রেজিংকৃত ওই অংশ। আমরা পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখছি কিভাবে ফেরি সচল করা যায়।

তিনি আরও জানান, এখন মার্কিং চলছে। যে বিকল্প পথে ফেরি চলতে পারে সেটা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আশা করা যায় এদিক দিয়ে ফেরি চলতে পারবে।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. আরমান হোসেন জানিয়েছেন, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমরা গাড়িগুলোকে বিকল্প পথে যাওয়ার অনুরোধ করছি।

ইত্তেফাক/নূহু