ইরানের সঙ্গে চীনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ক্ষতির কারণ হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনো দেশ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলে সে সকল দেশকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে এমন মন্তব্যের পর গতকাল চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের যে দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক রয়েছে তা উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক। বাণিজ্য ও জ্বালানিকে ঘিরেই এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমরা সঙ্গত কারণেই এই সম্পর্ককে যুক্তিসঙ্গত, ন্যায্য এবং আইনসিদ্ধ বলে মনে করি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এর মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার কোনো লঙ্ঘন হয়নি। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে সব বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারও কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। কাজেই আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এটাই বলতে পারি যে, এটি অন্য কোনো দেশের স্বার্থের হানি ঘটাবে না। কেননা আমরা মনে করি, অন্যের স্বার্থকে সুরক্ষা ও সম্মান দেখানো উচিত।
এক পর্যায়ে বলা হয়, কারও প্রতি হুমকি প্রদর্শন বা নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে রাখলেই সকল সমস্যার সমাধান হয় না। কেবল সংলাপ বা আলোচনায়ই হতে পারে এ ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
উল্লেখ্য, চীন হচ্ছে ইরানের শীর্ষ তেলের ক্রেতা। প্রতিদিন তারা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ক্রুড অয়েল ইরানের কাছ থেকে কিনে থাকে। এটি চীনের মোট ক্রুড অয়েল আমদানির ৭ শতাংশ। বছরে চীন প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্রুড অয়েল বা অশোধিত তেল কিনে থাকে।
চীনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ফার্ম সিএনপিসি এবং সিনপেক এরই মধ্যে ইরানের এই তেল খাতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াদাবারান এবং উত্তর আজদেগানের তেল-ক্ষেত্র। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চীন-ইরান যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে তা নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকেই হয়েছে।
ইত্তেফাক/ জেআর