পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নড়াইলের কালিয়ায় দৈনিক খবরের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি শেখ ফসিয়ার রহমান নামে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করেছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। মারাত্মক আহত ফসিয়ার রহমানকে কালিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের বড় কালিয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ফসিয়ার রহমান জানান, উপজেলার প্রধান নদী নবগঙ্গার তীরবর্তী শুক্তগ্রাম নামক স্থানে গত ১৫ দিনের ভাঙ্গনে কুমোর পল্লীসহ প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও গাছ পালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙ্গনে বর্তমানে শুক্তগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পটিও ভাঙ্গন কবলিত হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকায় স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। কিন্তু রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে শুক্তগ্রাম নদী ভাঙ্গনের অদূরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ওই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে জানতে পেরে তিনি সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করাসহ ছবি তুলতে ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কালিয়া পৌর শহরে ফেরার পথে বড়কালিয়া স্লইস গেটের পাশে যান। সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের অন্যতম সদস্য হাড়িডাঙ্গা গ্রামের তারিক, বালা, মেশকাত ও বড়কালিয়া গ্রামের অনির্বান ঘোষ ওরফে ছনোর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল সশস্ত্রী তার মোটরসাইকেল থামিয়ে বালু উত্তোলনের ছবি তোলার কারণ জানতে চায়। পরে তারা ফসিয়ার রহমানের ক্যামেরাটি কেড়ে নেয় এবং তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে।
কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ পেলে মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিয়ার ইউএনও এবিএম খালিদ ছিদ্দিকী বলেছেন, নবগঙ্গা নদীর বৃহাচলা নামক স্থানে একটি বালু মহাল ইজারা দেয়া আছে। কিন্তু শুক্তগ্রাম এলাকায় কোন বালু মহাল ইজারা দেয়া নেই। আর নদী ভাঙ্গনের কাছে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণই অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ