ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় বৃষ্টিপাতের প্রবল দুর্যোগ চলছে। যদিও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর গত শনিবার সাময়িক স্বস্তি এসেছিল কেরালায়। তবে রবিবার থেকে এই রাজ্যে বৃষ্টির দাপট আবার বাড়ছে। রাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর আজ সোমবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ভারতের পর্যটন মন্ত্রী কে জে আলফনস গত শুক্রবার বলেছেন যে, গত ৫০ বছরের মধ্যে এবারে মৌসুমে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে কেরালায়।
বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় কেরালায় এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭। বন্যায় এবং বৃষ্টিতে দেড় হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১০১টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ৫৩১টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তাতে আশ্রয় নিয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।
রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর দিকের জেলাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য তৈরি হয়েছে অস্থায়ী সেতু। পেরিয়ার নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় সতর্ক করা হয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীকেও। আশঙ্কা করা হচ্ছে ওয়েলিংডন দ্বীপের একাংশ ডুবে যেতে পারে।
এদিকে গত শুক্রবার কেরালার ইদুক্কি ড্যামের পাঁচটি গেটই খুলে দেওয়ার পর রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটে। এছাড়াও পানি ছাড়া শুরু করা হয় রাজ্যের আরো অন্তত দুই ডজন বাঁধের।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রাজ্যের প্রায় ৪০টি নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) পাশাপাশি দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি ও বন্যায় স্বজনহারা পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে কেরালা সরকার। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/ জেআর