গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি মুকসুদপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।
গত শুক্রবার সকালে মুকসুদপুর উপজেলার খানজাপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক জামাল শেখ (৩৫) পলাতক রয়েছে।
ওই শিশুর পিতা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে তার মেয়ে বাড়ির পাশের জমিতে রসুন কুড়াতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী রাজু শেখের বখাটে ছেলে ইজিবাইক চালক জামাল শেখ তার মেয়েকে ওই জমিতেই ধর্ষণ করে। বাড়ি এসে বিষয়টি জানালে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি মুকসুদপুর উপজেলার সিন্ধিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহিদুল ইসলাম ফরিদুপর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে গিয়ে ওই শিশুর সঙ্গে কথা বলেছে। এ ব্যাপারে আজ সোমবার মুকসুদপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, জামাল শেখ মাদকসেবী ও ইজিবাইক চালাক। তার চরিত্র খারাপ। সে এ ধরণের কাজ আগেও করে পার পেয়েছে। এখন বিষয়টি মীমাংসা করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে তার স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনা ঘটিয়ে মীমাংসা করতে না পেরে এখন জামাল পালিয়েছে।
ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে বখাটে জামাল অসভ্য কাজ করেছে। শিক্ষক হিসেবে আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ করছি। কোন শিশুর সঙ্গে এ ধরণনের আচরণ বরদাস্ত করার মতো নয়। আমি এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার বিচার চাই। ধর্ষককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে এ এলাকার কেউ এ ধরণের কাজ করার সাহস দেখাবে না।’
ওই শিশুর মা বলেন, ‘আমি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার চাই। আমার মেয়ের ধর্ষণকারী যেন কোন অবস্থায় রেহাই না পায়।’
এ ব্যাপারে মুকসুদপুর উপজেলার সিন্ধিয়াঘাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ও ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মোঃ মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ফরিদপুর হাসপাতালে গিয়ে ওই শিশুর সঙ্গে কথা বলেছি। মুকসুদপুর থানার ওসিসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সোমবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ওই শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ধর্ষক পলাতক রয়েছে।’
আরও পড়ুনঃ জীবননগরে এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার
মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত জামালকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’
ইত্তেফাক/নূহু