কর্তব্যরত নার্সদের হাতে বিতাড়িত হয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরের খোলা স্থানে সন্তান প্রসব ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনসহ চিকিৎসাধিন ওই প্রসূতি, তার অভিভাবকসহ চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন দোষী নার্সদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এবং সিভিন সার্জনের নির্দেশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার গুপ্তর নেতৃত্বে এক সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুইজন সদস্য হলেন-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার গুপ্ত ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার গুপ্ত বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সময় তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিলেন না। তবে ঘটনাটি জানার সঙ্গেই ওই প্রসূতিকে মহিলা ওয়ার্ডে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
তবে কর্তব্যরত নার্স রোজিনা আক্তার ও আফরোজা খাতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা প্রসূতি রিনা পারভীনের অবস্থা সম্পর্কে কোন চিকিৎসককে না জানিয়ে নিজেরাই পেটে টিউমার অবিষ্কার করে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসেবা দেওয়া সম্ভব না বলে স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধিন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া কথা বলে দোতলা থেকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে দিয়েছেন এমন তথ্য তদন্ত কমিটি পেয়েছে।
চিকিৎসক ছাড়া কোন নার্স কোন রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করাতে পারেন না। নার্স দুজন যা করেছেন তার সবই চাকরিবিধি পরিপন্থী এবং অপরাধের সামিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাতে আসলে দোষী নার্সদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর গ্রামের রিকশা চালক আবু তাহেরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রিনা পারভীনের (৩৫) প্রসব বেদনা উঠলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত নার্স রোজিনা আক্তার ও আফরোজা খাতুন ওই প্রসূতিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের করে দিয়ে স্থানীয় একটি ব্যক্তি মালিকানাধিন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া কথা বলেন। পরে প্রসব বেদনায় কাতরাতে শুরু করলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরেই খোলা স্থানে ওই প্রসূতি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি