‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করুন’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিকসহ দেশের বিশিষ্টজনরা। 
 
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড’ শীর্ষক জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় এই আহ্বান জানানো হয়েছে। 
 
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি একে আজাদ চৌধুরী ও আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূম মুকুল, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও সঞ্চালনা করেন সেমিনার উপ-কমিটির আহ্বায়ক শ্যামল দত্ত। 
 
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‌আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তবে বঙ্গবন্ধুকে ধরে রাখতে পারিনি। আমি মনে করি সে সময় রাজনীতিবিদ, সামরিক, আমলাসহ বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি কমিশন গঠন করা হোক। যারা এটি তদন্ত করে দেখবে। অনেক দেশেই এ ধরনের কমিশন করা হয়েছে। 
 
মোহাম্মদ জমির বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা অনেক আগেই আরও অনেক উন্নত দেশ হতে পারতাম। একে আজাদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তাঁর আদর্শ মুছে দিয়ে দেশকে পিছনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যে ক্ষতি হয়েছে অর্থনৈতিকভাবে তা ‘রিকোভারি’ করা গেলেও সামাজিকভাবে তা সম্ভব নয় এবং সহজও নয়। 
IMG0
আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসে একটি অভিশপ্ত দিন। তবে ষড়যন্ত্র ’৭৫ এর আগেই শুরু হয়েছে এবং এখনও চলমান। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সকল তথ্য উদঘাটন হতে কমিশনের মাধ্যমে এ সব পূর্বাপর সকল ঘটনা উঠিয়ে আনা হোক।
 
আব্দুল কাইয়ূম মুকুল বলেন, খুনিরা চেয়েছিল সবার নাম নিশানা মুছে দিতে। তবে সেটা হয়নি। তাঁরই কন্যা দীর্ঘদিন পর হলেও ক্ষমতায় এসেছে। এই দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছে। 
 
আলোচনা সভায় বাসস এর প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, একুশে টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজে’র মহাসচিব শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাঈনুল আলম, শামসুদ্দিন আহমেদ চারুসহ জেষ্ঠ্য সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই