বাংলাদেশের দুর্লভ এক আবাসিক পাখি। সাদা ঈগল বা সাদা সাগর ঈগল নামেও পরিচিত।
সিন্ধু ঈগল খুবই সুন্দর পাখি। দৈর্ঘ্য ৬৬-৯০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১.৮-৪.৫ কেজি হয়ে থাকে। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও আকারে স্ত্রী পাখি কিছুটা বড়। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা, গলা, বুক, পেট ও দেহতল ধবধবে সাদা। ডানা, পিঠ ও লেজের গোড়া কালচে ধূসর। বড়শির মতো বাঁকা ঠোঁটটি গাঢ় ধূসর হয়। পা ও আঙুল ধূসরাভ-সাদা, কিন্তু নখ কালচে।
সিন্ধু ঈগল সুন্দরবনসহ উপকূলীয় শ্বাসমূলীয় (Mangrove) বনের পাখি। সুন্দরবনেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দেখা যায়। একাকী বা জোড়ায় থাকে। সচরাচর নদী বা খালের ওপর ঝুলে থাকা গাছের ডাল বা আকাশে উড়ন্ত অবস্থা থেকে চমত্কার ভঙ্গিমায় পানি থেকে সাপ, গুইসাপ, মাছ ইত্যাদি শিকার করে খায়। এছাড়া কাঁকড়া, ইঁদুর, অন্যান্য প্রাণী ও পাখি শিকার করে।
সিন্ধু ঈগলের প্রজননকাল অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাস অবধি। এ সময় সমুদ্র-নদী-খালপাড়ের উঁচু গাছের মগডালে ডালপালা, ঘাস, আগাছা ও পাতা দিয়ে মাচানের মতো ১.২-১.৫ মিটার চওড়া ও ০.৫-১.৮ মিটার গভীর বাসা বানায়। একই বাসা এরা বছরের পর বছর ব্যবহার করতে পারে; প্রতিবছর কিছুটা মেরামত করে নেয় মাত্র। স্ত্রী সিন্ধু ঈগল গড়ে দুটি সাদা ডিম পাড়ে, যা ফোটে ৩৬ থেকে ৪২ দিনে। মূলত স্ত্রী পাখিই ডিমে তা দেয়, তবে স্ত্রী পাখি খেতে গেলে পুরুষ পাখি তা দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। বাচ্চাগুলো ৬৫ থেকে ৭০ দিনে বড় হয় ও নীল আকাশে স্বপ্নের ডানা মেলে। এরা প্রায় ১৫ বছর বাঁচে।