সাবেক সিআইএ প্রধান জন ব্রেনানের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক প্রধান জন ব্রেনানের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে করে এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন ব্রেনান। তিনি বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছেন। খবর বিবিসি’র।
 
খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ব্রেনানের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করার বিষয়টি এক ঘোষণায় নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হুকাবে স্যান্ডার্স।
 
ট্রাম্পের এক বিবৃতি পড়ে শোনান হুকাবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রেনানের অস্থির প্রকৃতির কার্যকলাপ ও আচরণের কারণে তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। 
 
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রেনান টুইট করেছেন,  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রোধ ও সমালোচকদের শাস্তি প্রদানের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। 
 
তিনি বলেন, এই ঘটনায় গোয়েন্দাকর্মীসহ সকল আমেরিকানদের মত প্রকাশের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। 
 
সাবেক সিআইএ প্রধান বলেন, আমার কাছে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের চেয়ে আমার নীতির মূল্য অনেক বেশি। আমি পিছু হটবো না। 
 
ব্রেনান সম্প্রতি জুলাই মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণকে রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এছাড়া গত বছরও ট্রাম্প শিবির ও রুশদের মধ্যে আঁতাত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। 
 
 
ট্রাম্পের বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প অন্যান্য সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র পর্যালোচনা করে দেখছে। ওই তালিকায় রয়েছেন, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের সাবেক প্রধান জেমস কমি, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান জেমস ক্ল্যাপার ও মাইক্যাল হেডেন এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়াটস। 
 
এদিকে, ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কমি। ব্রেনানের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিলের ঘটনার আগেই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ‘নৈতিকভাবে অযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। আর এই ঘটনার পর তিনি বলেন, আরো একবার এই প্রেসিডেন্ট এমন বার্তা পাঠাচ্ছেন যে, তার সঙ্গে যারা দ্বিমত পোষণ করবে তাদের তিনি শাস্তি দিবেন এবং যারা তার প্রশংসা করবে তাদের তিনি পুরস্কৃত করবেন। 
 
 
তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা ছাড়পত্র কোন তুচ্ছ রাজনৈতিক খেলায় ভোটারদের মনোযোগ আরো বড় সংকট থেকে সরিয়ে নিতে ‘চাল’ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নয়।
 
কমি বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রতিদিন আমেরিকান জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলেন, জাতিবিদ্বেষ উস্কে দেন। তিনি একজন নারী-বিদ্বেষী এবং তিনি সবার আগে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ বিবেচনা করেন। 
 
ইত্তেফাক/ জেআর
ট্রাম্পের বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প অন্যান্য সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র পর্যালোচনা করে দেখছে। ওই তালিকায় রয়েছে, জেমস কমি, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান জেমস ক্ল্যাপার ও মাইক্যাল হেডেন এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়াটস।