দেড়শ’ বছর যাবত্ উত্তরবঙ্গে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বগুড়া উডবার্ণ সরকারি গণগ্রন্থাগার। ইতিহাসের অনেক ভাঙাগড়ার নীরব সাক্ষীও এই গ্রন্থাগার। প্রতিদিন কয়েকশ’ জ্ঞানপিপাসু পাঠক নিয়মিত এই পাঠাগারে এসে জ্ঞান অন্বেষণ করছেন। অনেক জ্ঞানী-গুণীজন, সংস্কৃতিসেবী, শিল্পী-সাহিত্যিক ও সরকারি কর্মকর্তা এই গ্রন্থাগারের ছোঁয়া পেয়ে হয়েছেন আলোকিত। সেই আলোকিত মানুষের পরশে দেশ ও জাতি হচ্ছে আলোকিত।
ব্রিটিশ ভারতে বগুড়া জেলা সংস্থাপিত হওয়ার ৩৩ বছর পর ১৮৫৪ সালে তত্কালীন আসাম বাংলার গভর্নর লেফটেন্যান্ট উডবার্ণের নামানুসারে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় ‘উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি’। পরে বগুড়া সরকারি গ্রন্থাগারের সঙ্গে একীভূত করে এর নামকরণ করা হয় ‘উডবার্ণ সরকারি গণগ্রন্থাগার’।
সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার পাঠকদের জন্য খোলা থাকে। গ্রন্থাগারে রয়েছে সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্বলিত ৫৩ হাজার বইয়ের ভাণ্ডার। নিয়মিত রাখা হয় ১৪টি দৈনিক ও ১৬টি সাময়িকী। বর্তমানে গ্রন্থাগারে বই ধার নেওয়ার সদস্য সংখ্যা ২৬৪ জন। তা ছাড়া প্রতিদিন ৩/৪শ’ পাঠক নিয়মিত পাঠাগারে এসে জ্ঞানচর্চা করে থাকেন।
উডবার্ণ গণগ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক ও সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান বলেন, গ্রন্থাগারে অনেক শিক্ষিত বেকার ও হতাশাগ্রস্ত যুবক আসেন পরামর্শ নিতে। তাদের বিবিও থেরাপির (পুস্তক চিকিত্সা পদ্ধতি) মাধ্যমে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এতে ওই যুবকদের হতাশা কেটে যাচ্ছে। তারা মনোবল ফিরে পাচ্ছেন এবং কেউ কেউ চাকরিও খুঁজে পাচ্ছে। গ্রন্থাগারটি সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু