রাউজানের কাতার প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু

রাউজানের এক কাতার প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে তার শ্বশুরবাড়ী চাঁন্দগাও থানার উত্তর চাঁন্দগাও বাহির সিগন্যাল এলাকার বক্স চৌধুরী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। শ্বশুর বাড়ির পক্ষ হতে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও নিহতের স্বজনদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত কাতার প্রবাসীর নাম মোঃ হাসান (৩৮)। তিনি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাদারপাড়া গ্রামের মৃত নুর হোসেনের পুত্র। ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে হাসান তৃতীয় সন্তান। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

শুক্রবার রাতে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাদার পাড়া গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশকে না জানিয়ে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া দাফন করার কারণে ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। নিহতের পরিবারের মনে সন্দেহ বড় আকারে দানা বেঁধেছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত হাসানের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী, বোন ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত হাসান দীর্ঘদিন ধরে কাতার প্রবাসী। সেদেশে তিনি গাড়িচালক ছিলেন। গত জুলাই মাসের ৮ তারিখ তিনি দেশে আসেন। এরমধ্যে গত বুধবার রাতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিজ বাড়িতে রেখে হাসান শ্বশুরবাড়িতে যান এবং রাত যাপন করেন। পরদিন বৃহষ্পতিবার স্ত্রী সন্তানেরাও সেখানে যান।

নিহতের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ঝর্ণা বলেন, আমার ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু হলেও তার শ্বশুর পক্ষের লোকজন আমাদের কোন খবর জানায় নি। পাশের বাড়ির আমার বোনের মেয়ে নাজনিন ফারজানার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি ভাই মারা গেছেন।

তিনি বলেন, শ্বশুড় বাড়ির লোকজন আমাদের বলছেন তিনি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হল শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কেন তিনি হঠাৎ আত্মহত্যা করবেন? ঘটনাটি আমাদের কাছে রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

নিহতের স্ত্রী নাছিমা আকতার বলেন, তিনি বুধবার আমার ভাইয়ের জন্য কনে দেখতে আমাদের বাড়িতে যান এবং রাতে সেখানে থাকেন। পরদিন বৃহস্পতিবার আমি ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়িতে যাই। গিয়ে আমার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথা বাজারের একটি মিষ্টি দোকানে বসে ভাইয়ের জন্য কনে দেখি। রাতে আমার বাপের বাড়িতে একসঙ্গে একই কক্ষে থাকি। সকালে সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের ঘরের সামনের কক্ষে প্লাস্টিকের দড়িতে পেঁচানো হাসানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই।

তিনি বলেন, কি কারণে এ ঘটনা তিনি কিছু জানাতে পারেন নি। পরে পরিবারের লোকজন তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।

নিহত হাসানের স্ত্রীর ভাই মো. হোসেন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুলাভাই আমাদের ঘরের সামনের কক্ষে ফ্যানের হাতলের সঙ্গে রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে। তখন আমি, আমার মা ও ভাগ্নি ইফতি তাকে নামিয়ে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন।

এ প্রসঙ্গে চাঁন্দগাও থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কেউ তাকে এ ঘটনা জানায়নি। তবে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান।

রাউজান থানার ওসি কেপায়াত উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি জেনেছি তবে ঘটনাস্থল যেহেতু চান্দঁগাও সেজন্য বিষয়টি সেখানের প্রশাসনই দেখবে।

ইত্তেফাক/নূহু