বাংলাদেশ জিতলেও মন ভরেনি দর্শকের

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৯ গোল্ডকাপ ফুটবলে ছয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে র্যাংকিংয়ে আরো চারটি দেশ উপরে রয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাতের অবস্থান ৯৮তে। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ১২৭ নম্বরে। মাঠের খেলায় আরব আমিরাতকে নিচে নামিয়ে দিল বাংলাদেশের মেয়েরা। সুন্দর ফুটবল খেলেছেন মৌসুমী, আঁখী খাতুন, স্বপ্না, মনিকা, মারিয়া, শিউলীরা। বাংলাদেশ ২-০ গোলে আরব আমিরাতকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে থাকল।

টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে একাধিক দল বাংলাদেশকে ফেভারিট বলেছিল। আর আরব আমিরাতের কোচ হুরাইরা আল তাহিরি বলেছিলেন তারা ফেভারিট। বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে চাম্পিয়ন হবে আরব আমিরাত। পাশেই বসা ছিলেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমী। তারা কোনো কথা বলেনি। মাঠে জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশের কোচ এবং অধিনায়ক। কাল যখন মাঠে নামলেন তার জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী আরব আমিরাত ছাড়াও রয়েছে কিরগিজস্তান। বাংলাদেশ প্রথম জেতায় সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে থাকল।    

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইটের আলোয় আরব আমিরাতের ফুটবলাররা বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্সে আঘাত করতে পারেনি। যেখানেই বল সেখানে মনিকা, মারিয়া, শিউলীরা। কিকঅফ থেকেই সাত জনকে আক্রমণে দাঁড় করিয়েছিলেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। বেশির ভাগ সময় জুড়ে বাংলাদেশের ফুটবলারদের পায়ে বল ছিল। কর্নার, ফ্রিকিক কিংবা বল পজেশনে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ছিল আরব আমিরাত। স্কিল, স্ট্যামিনা, ডজ, পাস, সবদিক বাংলাদেশের মেয়েদের দখলে ছিল। তারপরও  স্কোর বোর্ডে গোল সংখ্যা বাড়ছিল না। তাতেও অখুশি ছিল না স্টেডিয়ামে আসা দর্শক। তৃতীয় গোলের অপেক্ষায় ছিল। বড়দের সঙ্গে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ছুটির দিনে। ব্র্যাক ইউনিসেফের সুবিধা বঞ্চিতরা স্টেডিয়ামে, হাজার সাতেক দর্শক মাঠে। প্রচণ্ড গরম। তারপরও বেশ উচ্ছ্বাস ছিল। গরমে ক্লান্ত ফুটবলারদের খেলার ফাঁকে ফাঁকে পানি দিতে হয়েছিল।

একতরফা ম্যাচ খেলেছে। জিতেছে। কিন্তু জিতলেও দর্শকদের মন ভরেনি। গোলের পর গোল মিস করেছে। প্রথমার্ধেই গোল করে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। স্বপ্না ও কৃষ্ণার গোলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে ছিল। গোল আরো বেশি হতে পারত। হিসাবে দেখা গেছে অনটার্গেট শট ছিল ৩৩টি। গোলপোস্টে গেছে ২২টি। ৭২ পারসেন্ট বল পজেশন, কর্নার পেয়েছে হাফ ডজন। সব কিছু নিজেদের মধ্যেই ছিল। তারপরও বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জেতার সুযোগ নিতে পারেনি। কারণ আক্রমণভাগে সবাই গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। যার পায়ে বল যায় সেও গোল করার জন্য ছুটে। গোল করতে গিয়ে বার বার অফসাইডের ফাঁদেও পড়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯

রূপনা চাকমা, শিউলী আজিম, সামসুন নাহার, আঁখী খাতুন, নারগিস খাতুন, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, সানজিদা আক্তার (মারজিয়া), মিশরাত জাহান মৌসুমী (অধিনায়ক), সিরাত জাহান স্বপ্না (সাজেদা খাতুন), কৃষ্ণা রাণী সরকার।

আরব আমিরাত অনূর্ধ্ব-১৯

আয়া ওয়ালিদ মালাল্লা, গুলাম আল মারজুকি, খালিদ আলজারকান, ফাতিমা, আলী হাবিব আলনুবি, রাওয়ান আব্দুল্লাহ  আল হাম্মাদী, আল জাকরান, ইদা জামাল, সালামা বিন ফাহাদ, সারাহ সামিহ  আল ব্লুসি, নাজলা এশা আলীসা, সেনদিয়া গরিব আল মাজরুই। রেফারি ঃ চাইনাসানি পানাস (থাইল্যান্ড)।

আজকের খেলা

তাজিকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া। সন্ধ্যা ৬টা।