বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভালো অগ্রগতি হলেও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ নেই। বিশেষত ব্যক্তি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে অনেক কথা বলেও প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। এর পেছনে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশের অনুপস্থিতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিনিয়োগ না বাড়ায় প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিনিয়োগ তথা ব্যবসায়ের সহায়ক পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তারা। রবিবার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে এক কর্মশালায় তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সহায়ক পদক্ষেপ’ শীর্ষক ওই কর্মশালার আয়োজন করে যথাক্রমে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। কর্মশালায় ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বাণিজ্য সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার (১৭৭তম) বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ভারত ১৫১তম অবস্থান থেকে ৮০ তে এগিয়ে আসতে পেরেছে। আর আমরা আগের বারের চাইতে পিছিয়ে গেছি। অথচ আমাদের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণে আমরা এগুচ্ছি ঠিক। কিন্তু অন্যান্য দেশে আমাদের চাইতে দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে। ফলে তাদের চাইতে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, ব্যবসা শুরু করার জন্য অনেক প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দেরি হওয়ায় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ৭০এর দশকে ভিয়েতনাম আর আমাদের অবস্থা একই ছিল। অথচ বর্তমানে ভিয়েতনামের বার্ষিক রপ্তানি ২শ’ বিলিয়ন ডলারের উপরে। আর আমাদের ৪০ বিলিয়ন ডলারের মত। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তারা পারলে আমরা সফল হতে পারছি না কেন?

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অহেতুক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রীতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলেন, বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্য কাস্টমসে খালাস করতে ৩৬০ ঘটনা সময় লাগে। আর রপ্তানি করা পণ্য জাহাজীকরণে সময় লাগে ৩১৫ ঘন্টা। অথচ দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি পণ্য ৭ ঘণ্টা এবং রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণে মাত্র ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। ভিয়েতনামে আমদানি ১৩২ এবং রপ্তানিতে ১০৫ ঘণ্টা সময় লাগে। দেশে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে ৩৯টি সংস্থা রয়েছে। এসব সংস্থার অনুমোদন নেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে বন্দরে অনেক বেশি সময় লাগে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য খন্দকার মো. আমিনুর রহমান বলেন, ব্যবসায় সহজীকরণ সূচকে আমাদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি লজ্জার। তবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ ও দ্রুততর করতে  উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় শুল্ক বিভাগের নেওয়া বেশকিছু পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বেসরকারিখাত বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি, এনবিআরের কাস্টমস মডার্নাইজেশন অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ফার্স্ট সেক্রেটারি গিয়াস কামাল এবং ইউকে এইডের প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজর মুশফিক ইবনে আকবর প্রমুখ।