চাল চুরির ঘটনায় মামলা: বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ঈদ উপলক্ষে রাজশাহীর বাঘায় হতদরিদ্রদের নামে বরাদ্দ ভিজিএফ’র ১০ বস্তা চাউল চুরির ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বের হতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার পরদিন রবিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ মামলাটি দায়ের করেছেন। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আরব আলী মাস্টার ও তার ভাই লালনকে। 
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলার দুটি পৌর সভা এবং ৭টি ইউনিয়নের অধীন হতদরিদ্রদের মাঝে (ভিজিএফএর) চাল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে তালিকা তৈরিসহ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে গড়গড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ইউনিয়নের (৪ নম্বর) ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব মাস্টারের ভাই লালনের বাড়ি থেকে ১০ বস্তা চাল উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ইমরুল কায়েস।
 
এদিকে ঘটনার পরদিন রবিবার চাল চুরির অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম  আরব আলী মাস্টার ও তার ভাই লালনকে অভিযুক্ত করে বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
এ মামলায় আরব আলী মাস্টার কেন অভিযুক্ত হলো তার কারণ যানতে চাইলে ফরিদুল ইসলাম বলেন, চাল বিতরণের জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্থানীয় সংসদের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছে। আর সেই প্রতিনিধি হিসাবে আরব আলী মাস্টার ১০ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) তার ভাই লালনের বাড়িতে রেখেছে এমন তথ্য তাদের কাছে আছে। এ কারণে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।  
 
গড়গড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার ১৯ মে. টন চাল বিতরণ করেছেন। কার্ড সংখ্যা ছিল ৯’শ ৯০টি। প্রতি কার্ডের বিপরীতে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যসহ এমপির মনোনীত ৯ জন প্রতিনিধি। এর মধ্যে একজন ছিলেন আরব আলী মাষ্টার। 
 
এ বিষয়ে এমপির মনোনীত প্রতিনিধি আরব আলী মাস্টারের সাথে দুপুরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, আমার হাত দিয়ে ৩৮টি কার্ড তৈরি হয়েছে এবং সেই কার্ড মোতাবেক চাল বিতরণ করেছি। তাহলে আপনার ভাই লালনের ঘরে ১০ বস্তা চাল কি করে এলো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। 
 
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান,  আরব আলীর হাত দিয়ে যে ৩৮টি কার্ড তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে ২৫টি ছিল ভুয়া। তিনি ওই ২৫টি কার্ডের বিপরীতে ১০ বস্তা চাল  চেয়ারম্যানের এক ভাতিজা এবং  নৈশপ্রহরীকে ম্যানেজ করে আগের দিন রাতে সরিয়ে ফেলে। যা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরদিন উদ্ধার করা হয়। গ্রামবাসীরা এ ঘটনায় আরব আলীকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।  
 
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল হাসান জানান, চাল আত্মসাতের অভিযোগে আরব আলী মাস্টার ও তার ভাই এর বিরুদ্ধে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে চাল উদ্ধারের পর থেকে তাদের দুই ভাইয়ের কাওকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ