কেরালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, মহামারীর আশঙ্কায় ভীত রাজ্য

কেরালায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি ঘটেছে। কিছু এলাকায় কমতে শুরু করেছে পানি। তবে কমেনি রাজ্যবাসীদের ভয়। বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেকোন রোগ মহামারী আকারে দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। এছাড়া, কেরালায় পাঁচটি গ্রামে এখনও আটকে প্রায় এক হাজার মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। গৃহহারা হয়েছেন অনেকে।
 
সোমবার পর্যন্ত কেরালার সাম্প্রতিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৭০ জনে পৌঁছেছে। সরকারি কর্মকর্তারা কেরালার গত ১০০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই বন্যাকে। ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় বাস্ত্যুচুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। ত্রাণ শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক হাজার। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, শীঘ্রই কাটছে না কেরালাবাসীর দুর্ভোগ।
 
ইতিমধ্যেই ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলো বসবাসের যোগ্য করে তোলা ও ঘর-বাড়ি নির্মাণ করাকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।
 
রাজ্যের এক গ্রাম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা মহেশ পি বলেন, এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পুনর্নির্মাণ করা, পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা। 
 
বন্যায় কমপক্ষে ৪০ হাজার পশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে একটি পশু কল্যাণ বিষয়ক এনজিও, পিপল ফর এনিম্যালস। বন্যার পানি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে তাদের মৃতদেহও ভেসে গেছে। 
 
ত্রাণ বিতরণে সাহায্যকারী এক স্বেচ্ছাসেবী আব্দুর রহমান জানান, আমরা কুকুর ও গরুর পচে যাওয়া মৃতদেহ পানিতে ভাসতে দেখেছি।
 
এদিকে, কেরালার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের প্রধান অনিল বাসুদেভান জানিয়েছেন, রাজ্য ত্রাণ শিবিরগুলোতে যেকোন ধরণের মহামারী ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।  সেখানে বিতরণ করা হচ্ছে রোগ প্রতিরোধকারী ওষুধ। 
 
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ব্যবসায়ীরা ‘ওনাম’ উৎসবের জন্য আগ থেকে খাদ্য গুদামজাত করে রাখায় রাজ্যে খাদ্যের অভাব নেই।  চলতি মাসের ২৫ তারিখ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বছর উৎসবটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। -আল জাজিরা
 
ইত্তেফাক/ জেআর