ঢাকাগামী ট্রেনের টিকেট কালোবাজারিদের হাতে

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ট্রেনের ঈদ টিকেটের বেশিরভাগ চোরাকারবারিদের হাতে চলে গেছে। ঈদকে সামনে রেখে রেলস্টেশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি চক্র ৩০ তারিখ পর্যন্ত ঈদের বেশিরভাগ টিকেট হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রটি এখন সেই টিকেট চড়া দামে বিক্রি করছে বলে একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে। 
 
খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দুটি ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেসের আলমডাঙ্গার জন্য বরাদ্দ মোট ৫৫টি টিকেট। ঈদ পরবর্তী ৩০ তারিখ পর্যন্ত মোট টিকেটের বেশিরভাগ অংশ চোরাকারবারিরা বিশেষ কায়দায় নিজেদের দখলে নিয়েছে। তারা এখন সেই টিকেট চড়া দামে বিক্রি করছে। 
 
আলমডাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত শোভন টিকেটের সরকারি মূল্য ৩৭৫ টাকা। এই চক্রটি সেই শোভনের মূল্য রাখছে ৮০০ টাকা। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) টিকেটের সরকারি মূল্য ৭৫০ টাকা। এই চক্রটি এসি টিকেট বিক্রি করছে ১৫০০ টাকায়।
 
টিকেট পাননি এমন কয়েকজন অভিযোগ করে বলেছেন, পরপর তিন রাত লাইনে দাড়িয়ে সকাল ৮টার সময় কাউন্টারে পৌঁছাতে পারলেও তারা টিকেট পাননি। তার আগেই টিকেট শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।  
 
কমপক্ষে ১০ জন অভিভাবক জানান, তাদের ছেলে-মেয়ে ঢাকায় ভার্সিটি কোচিং করছে। এদের কারো কারো কোচিংয়ের পরীক্ষা শুরু হবে যথাক্রমে ২৭ তারিখ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে। তারা একের পর এক রাত জেগে কাউন্টার থেকে টিকেট পাননি। 
 
তারা জানান, প্রকাশ্যে কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট এই টিকেট সব নিজেরা কেটে নিচ্ছে। চক্রের সদস্যরা সেই টিকেট এখন বাড়ি বসে বসে বিক্রি করছে। শোভনের দাম রাখছে ৮০০ টাকা আর এসির দাম রাখছে ১৫০০ টাকা।
 
আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন মাস্টার মিন্টু মিয়া জানান, নিয়মানুযায়ী একজন তিনটি টিকেট কাটতে পারবেন। কেউ লাইনে দাড়িয়ে তিনটি টিকেট কিনলে তা আমরা দিতে বাধ্য। আমরা তো কাউকে চিনে রাখি না।
 
তবে ভুক্তভোগীরা জানান, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের টিকেট কালোবাজারি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ