চরভদ্রাসনের এমপি ডাঙ্গী সড়ক নদী গর্ভে বিলীন

শেষ রক্ষা হলো না চরভদ্রাসন-ফরিদপুর ভায়া এমপি ডাঙ্গীর ৬০ মিটার পাকা সড়কের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ এমপি ডাঙ্গী স্কুল সংলগ্ন এলজিইডির পাকা সড়কটি পদ্মার ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
 
যেকোন মুহুর্তে উপজেলার সদর ইউনিয়নের এমপি ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধা পাকা ভবন ও নব নির্মিত তিন কক্ষ বিশিষ্ট আনুভূমিক একটি টিনের ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙ্গনের ফলে চরভদ্রাসন সদরের সঙ্গে গাজিরটেক, হরিরামপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। তিনি ভাঙনের হাত থেকে দ্রুত স্কুল ভবনটি রক্ষায় ফদিরপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদের সঙ্গে কথা বলেন।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এহসানুল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল হক প্রমুখ।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোতের তোড়ে ভাঙনের কবলে পরে এমপি ডাঙ্গী, ফাজেলখার ডাঙ্গী ও বালিয়াডাঙ্গীর নদী পাড়। অনেকে বসত বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন রোধে কয়েকটি স্পটে অস্থায়ী ভাবে পাউবোর ডাম্পিং কাজের বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা কোন কাজে আসেনি। বিদ্যালয়টি রক্ষায় পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘চরভদ্রাসনের ভাঙন প্রতিরোধে উর্দ্ধতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েক মাস ধরে অস্থায়ী ভাবে বিভিন্ন স্পটে ডাম্পিং করছে পানিউন্নয়ন বোর্ড, ভাঙনকে প্রসমিত রাখতে আমরা সর্বত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, এমপিডাঙ্গী সড়কটি নদী গর্ভে চলে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনা, ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের পুনরায় নতুন করে বালুর বস্তার ডাম্পিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
ভাঙনের বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার ভাঙন এলাকায় কয়েক ধাপে বালুর বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করলেও গত ২মাসে তীব্র স্রোতের তোড়ে ফাজেলখার ডাঙ্গী স. প্রা. বিদ্যালয়, এমপিডাঙ্গী স্কুল সংলগ্ন পাকা সড়ক, বালিয়াডাঙ্গীর একটি মসজিদ, কয়েক হাজার গাছপালা, ফসলি জমি ও প্রায় অর্ধশতাধিক বসত বাড়ি নদী গর্ভে সম্পুর্ণ বিলীন হয়ে গেছে, অন্যত্র সড়িয়ে নিয়েছে নদী পাড়ের অনেক বসত বাড়ি।
 
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে চরভদ্রাসনে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের ২৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধের এ কাজটি করা না হলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে চরভদ্রাসন উপজেলা।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি