মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যার বিচার দাবি

আজ ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের ২৪টি সীমান্ত চৌকিতে স্বশস্ত্র হামলার এক বছর। গত বছরের এইদিনে সন্ত্রাসী হামলার সূত্রধরে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী, নৌসদস্য ও উগ্র রাখাইনদের হাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
 
তাদের বর্বরতা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয়। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করেছে টেকনাফের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। 
 
শনিবার সকাল ৯টা থেকে টেকনাফের রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া, হ্নীলার আলীখালী, লেদা, নয়াপাড়া, শালবন, জাদিমোরা-দমদমিয়ায় ও বাহারছড়ার শামলাপুর বস্তিতে রোহিঙ্গারা মিছিল-সমাবেশ করেছে। এরপর তারা সমাবেশ করে। এতে সরকারি বাহিনীর হাতে নারী ধর্ষণ, শিশু ও নিরীহ রোহিঙ্গা হত্যাকারীদের আর্ন্তজাতিক আইনে শাস্তির দাবি জানানো হয়।
 
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতের প্রথম প্রহরে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম রাজ্যের পাহাড়ের পূর্ব পাশে রাশিদং, রাজারবিল, বড়ছড়া, আন্দাম, ধুপমাইল, কুল্লুং, শীতাইক্যা, মন্ডুর মেরুল্লা, হাসছুরাতা, বাগঘোনা, তালাসখ, রাবাইল্যা, ঝিমংখালী, কুয়াংছিপং, তুমব্রু, ক্যাংবং, বুচিদংস্থ টংবাজার, মিংনিশি, পীরখালী, মগডিল, বলী বাজার, ফৈরা বাজার, কুয়ারবিল, মন্ডুর হাইন্ডার পাড়াসহ ২৪টি এলাকার সীমান্ত চৌকি ও সেনা ঘাটিতে স্বশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই সময় হামলাকারী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে পুরো এলাকায় লড়াই চলতে থাকে। এ ঘটনার জন্য সংখ্যালঘু মুসলিমদের দায়ী করে। এরপর হতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী, সীমান্ত রক্ষী, নৌ সদস্য ও উগ্র রাখাইনদের হাতে  হাজারো নারী ধর্ষণের শিকার হয়। অসংখ্য মানুষ নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়। কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় অগণিত মানুষকে। শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষায় উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
 
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হোসেন বলেন, এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কেউ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি