জামালপুরে শ্যালকের হাতে বোন জামাই খুন

সদর উপজেলার নবাবপুর গ্রামে শ্যালকের হাতে বোন জামাই খুন হয়েছেন। স্বেচ্ছায় পুলিশে কাছে আত্মসমর্পণ করে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন শ্যালক খালিদ হাসান চৌধুরী স্মরণ (২৪)।
 
শুক্রবার রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বোন জামাই মাজহারুল ইসলাম ছোটন (৩০) ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
 
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাজহারুল ৪ বছর আগে আপন চাচাতো ভাই ফজলুল হকের মেয়ে লোবানা আক্তার লিপুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে বিয়ে করেন। এই বিয়ে পারিবারিক ভাবে মেনে না নেওয়ায় মাজহারুল স্ত্রীকে ঢাকায় চলে আসেন এবং একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বসবাস করতে থাকতেন।
 
৩ মাস আগে মাজহারুল গ্রামের বাড়ি নবাবপুরে এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
 
শুক্রবার রাতে মাজহারুল তার স্ত্রীকে নিয়ে তাদের বাড়ির পাশে এক চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে দাওয়াত খেতে যান। বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে রাত সোয়া ১২টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত মাজহারুলকে তার বসতঘরের পাশেই একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।
 
এ সময় তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 
শনিবার দুপুরে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ জামালপুরে আনা হবে।
 
এদিকে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নিহতের শ্যালক খালিদ রাতেই স্থানীয় নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে পুলিশের কাছে খুনের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালিদ চাচা-ভাতিজি বিয়ে নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরেই তাকে খুন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
 
নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সাদির উদ্দিন বলেন, খুনের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণকারী খালিদকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি