বরিশালে লঞ্চ টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়, টিকিট কালোবাজারে

বরিশাল নদী বন্দরে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। গতকাল শনিবার নদী বন্দর ঘুরে দেখা যায়, ১৬টি বেসরকারি লঞ্চ ও বিআইডব্লিউটিসি’র পিএস অস্ট্রিচ ও এমভি বাঙালি বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে যাত্রী পরিবহন করে। দুপুর তিনটা থেকেই যাত্রীদের আসা শুরু হয় নদী বন্দরে। বিকাল ৫টা গড়াতেই লঞ্চগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। লঞ্চ যাত্রীরা বলেন, ‘আগামীকাল (রবিবার) থেকে অফিস খুলবে। তাই আজকেই (শনিবার) রওনা হয়েছি। তবে ঈদের পরের দিন রওনা দিলেই সব থেকে ভালো হতো। ধীরে সুস্থে যাওয়া যেত। এখন তো অনেক ভিড় ঠেলে যেতে হচ্ছে।’ অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার মাসুদ জানান, ‘সরকারি অফিস আজ থেকে খুলছে এবং গার্মেন্টসগুলোও খুলছে কয়েকদিন পরেই। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ বেশি থাকবে।’ এদিকে স্পেশাল সার্ভিস থাকায় গতকাল লঞ্চের সংখ্যাও বেশি ছিল। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত লঞ্চ স্পেশাল সার্ভিস চলবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের কর্মকর্তারা।

নৌ-বন্দরে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, মানুষের বাড়তি চাপের সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বেসরকারি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। ডাবল কেবিন ১৬শ’ টাকার স্থলে ২২শ’ ও সিঙ্গেল কেবিন ৮শ’ টাকার স্থলে ১২শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ডেকে সাধারণ ভাড়া ২০০ হলেও এখন ২৫০ টাকা। এসব লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৫শ’ হলেও তিন গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো রওনা হয়ে যায় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। যাত্রীরা বলেন, লঞ্চের ছাদে কোনো মতে দাঁড়িয়ে থেকেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এদিকে আজ থেকে আগামী তিন দিনের লঞ্চ ও বাসের টিকিট মিলছে না। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট কিনতে চাইলে টিকিট মিলছে না অথচ কয়েক গুণ বেশি দামে টার্মিনাল এলাকায় কালো বাজারে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

বরিশাল নৌ-বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, বিলাসবহুল লঞ্চের তকমা লাগিয়ে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বেশি যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব লঞ্চের কাউন্টারে ধর্না দিয়ে কেউ কেউ টিকিট পেলেও অনেকেরই যেতে হচ্ছে ডেকে কিংবা ছাদে। আবার যারা টিকিট পেয়েছেন তাদেরও রয়েছে নানা অভিযোগ। আজিজ আহমেদ মামুন নামের এক যাত্রী জানান, ঈদের পূর্বে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলাসবহুল লঞ্চের ভিআইপি কেবিনে স্বাভাবিকের চেয়ে দেড়গুণ ভাড়া গুনে আসলেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এসি বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড গরমে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার খাবারের দামও রাখা হয়েছে তিন থেকে চারগুণ বেশি। তবে বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঈদে বাড়তি চাপ সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য অসুবিধা হতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধকল্পে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দর ছাড়তে দেওয়া হবে না। নিরাপদ যাত্রার লক্ষ্যে লঞ্চ মালিক, মাস্টার-ড্রাইভার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের আগেই সভা ও মোটিভেশন ওয়ার্ক করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা ও বন্দর এলাকায় যাত্রীসহ সবার সচেতনতায় মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সেবার মধ্যে মেরিন ক্যাডেট ও স্কাউটদের সহায়তায় বন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। গতকাল এ্যাডভেঞ্চার-১ ও ৯, পারাবত-৮, ৯, ১১, ১২, কীর্তনখোলা-২, ১০, সুন্দরবন-১০-১১, সুরভী-৮ ও ৯, টিপু-৭, গ্রীন লাইন ও ভায়া লঞ্চসহ ১৮টি নৌযান বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রী নিয়ে নৌ-বন্দর ত্যাগ করে। এছাড়া ঝালকাঠী, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটের ভায়া আরো ৬টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন করে।

ইত্তেফাক/নূহু