ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

জামালপুরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। প্রসূতির বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকের এক কর্মী গণধোলাই দিয়েছেন।
 
রবিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত নয়াপাড়া এলাকায় জামালপুর পপুলার হাসপাতাল (প্রা:) নামের ওই ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকটির মালিক ও ম্যানেজারসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
 
মৃত নবজাতকের দাদী জোবেদা বেগম জানিয়েছেন, জেলার মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোচা ইউনিয়নের ফুলকোচা গ্রামের বাসিন্দা নওশের আলী আকন্দের ছেলে ইসমাইল হোসেন আনন্দ তার অন্ত:স্বত্বা স্ত্রী দোলনা বেগম সুখীকে (২৪) রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় এনে জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় বাচ্চা প্রসবের জন্য পপুলার ক্লিনিকে ভর্তি করান। ভর্তির সময় প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান, নার্স মৌসুমী ও রিতু প্রসূতিকে ভর্তি করাতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।  প্রসূতির স্বামী আনন্দ ১ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা করতে বলেন। এ সময় প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও নার্সরা প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। 
 
প্রথমে তারা স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। প্রায়  দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৬টার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে তারা প্রসূতির স্বজনদের জানায় ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি। এ সময় প্রসূতির স্বজনদের সন্দেহ হলে অন্য ক্লিনিকে যেতে চায় তারা। কিন্তু প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও এক্স-রে অপারেটর আরিফ রোগী নিয়ে যেতে হলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে প্রসূতি কি অবস্থায় আছে তাও জানতে দেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
 
একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম এনেসথেসিয়া একজন ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রোপচার করলে মৃত মেয়ে বাচ্চা প্রসব হয়। 
IMG0
মৃত নবজাতকের পিতা ইসমাইল হোসেন আনন্দের অভিযোগ, ডাক্তার ক্লিনিকে আসার আগেই স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করার সময় নবজাতককে টনা হেঁচড়া করে মেরে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভোরে কর্তব্যরত প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও এক্স-রে অপারেটরসহ ক্লিনিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গা ঢাকা দেন। 
 
বেলা দেড়টার দিকে এক্স-রে অপারেটর আরিফ ক্লিনিকে ফিরে এলে প্রসূতির লোকজনরা তাকে চিনতে পেরে আটক করে গণধোলাই দিতে থাকে।  খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশের এসআই মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।  
 
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। প্রসূতির স্বজনরা কেউ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সকালে আমি ওই হাসপাতালে সিজার অপারেশন করে চলে এসেছি, এর পর সেখানে কি হয়েছে জানি না। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ