নারায়ণগঞ্জে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে মারধরের শিকার ডিবির দুই এসআই

নারায়ণগঞ্জ নগরীতে নারীসহ চারজনকে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সায়েম ও মিজান নামে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দুই এসআইকে ব্যাপক মারধরসহ আটকে রেখেছিলো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ দুই পুলিশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় খানপুর চৌরঙ্গি পার্ক সংলগ্ন মাই লাইফ ক্যাফেতে এ ঘটনা ঘটে। 
 
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের মারধরে আহত হয়েছেন জালালউদ্দিন, তার স্ত্রী রীনা ইয়াসমীন ও তাঁদের দুই সন্তান রবিন এবং আলামিন। তাদেরকে খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর তাদের মধ্যে জালাল উদ্দিন, রবিন ও আলামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যালে কলেজে পাঠিয়ে দেয়া হয়। 
 
মাই লাইফ ক্যাফের মালিক জালল উদ্দিনের স্ত্রী রীনা ইয়াসমীন জানান, সন্ধ্যার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দুই উপ-পরিদর্শক সায়েম ও মিজান একজন নারী নিয়ে দোকানে আসেন। তারা লাচ্ছি, কফিসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে ৩ হাজার টাকা বিল না দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এমন সময় আমার ছেলে রবিন তাদের কাছ থেকে বিল চাইলে বরফ কম দেয়ার অভিযোগ তুলেন এবং নিজেদেরকে পুলিশের লোক পরিচয় বিল দিতে চাচ্ছিলেন না। 
 
রীনা আরও বলেন, বিল না দিতে চাইলে এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে রবিনকে থাপ্পর দেন তাদের একজন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আমার স্বামী জালাল উদ্দিন ও অপর ছেলে আলামিনকে মারধর করেন সায়েম ও মিজান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বাধা দিলে তারা দুজন আমাকেও ব্যাপক মারধর করেন। তিনি বলেন, আমাদের যখন অমানবিকভাবে তাঁরা পেটাচ্ছিলেন তখন আশপাশের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাদেরকে পাল্টা মারধর করেন। পরে আরও পুলিশ এসে মানুষজনকে ব্যাপক লাঠি পেটা করে। 
 
সদর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, পার্কে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দুই সদস্য খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছু উশৃঙ্খল লোকজনের সাথে ঝামেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীনকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন বলেন, ডিবি পুলিশের দুই সদস্য ফ্যামেলি নিয়ে পার্কের কাছে খাওয়া-দাওয়া করতে যান। ওই সময় কয়েকজনের সাথে তাঁদের বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশের ওই দুই সদস্যকে মারধর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী কাউকে পাইনি। আহতদের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
 
এদিকে এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) নূরে আলম বলেন, এ ঘটনায় আমাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশ সুপার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের সম্পৃক্ততা থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/কেআই