শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ধান উত্পাদনের দিক থেকে নন্দীগ্রাম উপজেলা শীর্ষে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার এ উপজেলায় ৮ হাজার ২৫৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আউশ ধান আবাদ হয়েছে।
বোরো ধান কাটার পর প্রায় তিন মাস জমি পতিত থাকে। স্বল্পমেয়াদী আউশ ধান আবাদ করে কৃষকরা অভাবের সময় ধান ঘরে তুলতে পেরে আনন্দিত। গত বছরে চেয়ে এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। অল্প খরচে আউশ ধান চাষাবাদ হওয়ার কারণে কৃষকরা এ ধান চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
ইতোমধ্যেই আউশ ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের দলগাছা, ডুবাতেঘর, পাঁচগ্রাম, পকুরিয়া পাড়া, পৌর এলাকার নামুইট, বৈলগ্রাম, বেলঘরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আউশ ধান কাটা মাড়াই চলছে। ধানের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমরা আউশ ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের দামও ভাল পাচ্ছি। তারা আরও জানান, আউশ ধান চাষাবাদের জন্য কৃষি বিভাগ বিনা মূল্যে বীজ, সার ও সেচে ভর্তুকিসহ একই জমিতে বছরে ৩টি ফসল উত্পাদনে জন্য পরামর্শ দিয়েছে তাদের।
বর্তমানে ব্রিধান-৪৮, ব্রিধান-৫৫, স্থানীয় পারি জাত ও পাঁচ ধান ৬শ থেকে ৭শ টাকা মন দরে বিক্রয় হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে কৃষকরা দোফসলি জমিতে তিনটি ফসল ফলাচ্ছে। আশানুরূপ দাম ও ফলন ভাল হওয়ায় কৃষরা আনন্দিত।
পাঁচগ্রামের কৃষক রাজু আহমেদ জানান, আমাদের এলাকায় বোরো ও আমন দুটি ফসল হতো। বর্তমানের বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়ে তৃতীয় ফসল আউশ ধান চাষবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আউশ ধান চাষাবাদে দিকে ঝুঁকছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা.মশিদুল হক জানান, এবার নন্দীগ্রাম উপজেলায় আউশ ধানের ফলন ভাল হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক অনুমোদিত জাত ব্রিধান-৪৮, ব্রিধান-৫৫ চাষাবাদের জন্য আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। এই ধানে রোগ ও পোকার আক্রমণ তেমন দেখা দেয়না। অন্য জাতের ধানের তুলনায় এর ফলন অনেক বেশী হয়। এ জাতের ধান চাষাবাদ করে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএম