বরিশাল অফিস
স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে খুন হন চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর এলাকার বান্দা ও দলিল লেখক রেজাউল করিম রিয়াজ (৪০)। স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন আমিনা আক্তার লিজা (৩০)। রবিবার দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন ডিবি ?পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুনা লায়লা, কোতোয়ালি মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম। উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা বলেন, দলিল লেখক রেজাউল করিম রিয়াজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতে রিয়াজের স্ত্রী লিজা ছাড়া আরো দুজন জড়িত। তাদের একজনের নাম মাসুম ও অন্যজন হাইল্লাহ বা হালিম বলে জানা গেছে। মাসুম নিহত রেজাউল করিমের সহকারী ও লিজার পরকীয়া প্রেমিক। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনার বিবরণে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, চার বছর আগে বন্দর থানাধীন চরকাউয়া এলাকার দেলোয়ার খানের মেয়ে আমিনা আক্তার লিজার সঙ্গে চরমোনাই ইউনিয়নের রাজধর গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের ছেলে রেজাউল করিমের বিয়ে হয়। এর আগে লিজার দুবার ও নিহত রিয়াজের একবার বিয়ে হয়েছিল। আগের বিয়ে বিচ্ছেদের পর তারা নতুন সম্পর্কে জড়ান। তিনি বলেন, লিজার আগের স্বামী ছিলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ। তার কাছ থেকে জমি ও বাড়ি কৌশলে লিখে নিয়ে বৃদ্ধকে তালাক দেন আমিনা আক্তার লিজা। আর রেজাউল করিম আগের স্ত্রীর সঙ্গে ১০ বছর সংসার করার পর তাকে তালাক দেন। লিজা রিয়াজকে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে না থেকে রাজধর গ্রামের শাহজাহান ভুঁইয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রেজাউলের আগের সংসারে কোনো সন্তান হয়নি এবং লিজারও কোনো সন্তান নেই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল।