গৃহবধূর শরীরজুড়ে স্বামীর নির্যাতনের শত চিহৃ

শরীরজুড়ে আঘাতের চিহৃ-কালশিরা। একটি দাঁত ভেঙ্গে গেছে। উঠে দাঁড়ানোর অবস্থা নেই। আঘাতের জায়গাগুলোতে অসহ্য যন্ত্রণায় একটু পরপরই কেঁদে উঠছেন। এমন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কাজলী বেগম (৪৫) হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
 
স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক না দেওয়ায় শ্বশুর বাড়িতে এভাবেই তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন স্বামী ও সৎ মেয়েরা। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী রায়হান আলীসহ (৫০) সৎ চার মেয়েকে অভিযুক্ত করে বুধবার দুপুরে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতিত গৃহবধূর বাবা আবেদ আলী মুন্সি।
 
যৌতুকের ১ লাখ টাকা দেওয়ার পরও আরও টাকার জন্য মাঝে মাঝেই চলত অমানবিক নির্যাতন। এরপরও স্বামীর ঘর ছাড়েননি তিনি। সামাজিকতার ভয়ে সব নির্যাতন সয়েই কাজলী বেগম স্বামীর ঘর করছিলেন। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে যৌতুকের জন্য তাকে বেদম মারপিটের করলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
 
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কাজলী বেগম বলেন, স্বামী রায়হান আলীর প্রথম পক্ষের চার মেয়ে থাকা অবস্থাতেই তার সঙ্গে ছয় বছর আগে বিয়ে হয়। সম্পত্তির ওয়ারিশ হবে এজন্য কয়েক বার জোরপূর্বক তার গর্ভের ভ্রূণও নষ্ট করেছেন স্বামী ও সৎ মেয়ে। এ কারনে তার শারীরিকভাবে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
 
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. রবিউল করিম শান্ত জানান, ওই গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর আঘাতের চিহৃ রয়েছে। শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় রক্ত জমে কালশিরা হয়েছে। সুস্থ হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
 
কাজলী বেগম বাবা আবেদ আলী মুন্সি বলেন, স্ত্রী সন্তান থাকা শর্তেও জামাই রায়হান আলীর পিড়াপিড়িতেই যৌতুকের টাকা দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেন তিনি। অথচ জামাই মাঝে মাঝে মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করেছে। এখন তিনি বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
 
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামী-স্ত্রীর ঘটনা এজন্য মামলা হয়নি।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ