প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতার অভাবে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। এছাড়া লোনাপানি অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে অগ্রসর হতেও একই সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নতি ছাড়া কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য গবেষণায় সুযোগসুবিধা বৃদ্ধিতে সরকার আন্তরিক।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে দুইদিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ২০১৮-২০১৯’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এফএও-এর সহযোগিতায় অত্যাধুনিক জাহাজ দিয়ে সমুদ্রে জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপের তথ্য-উপাত্ত হাতে আসার পর সমুদ্রে ব্যবস্থাপনা কৌশল উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ সচিব রইছউল আলম মন্ডল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোলজার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হক।
রইছউল আলম মন্ডল মত্স্যবিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেটা ল্যাবরেটরিতে সাকসেসফুল সেটা কি ফিল্ডে যথাযথভাবে সফল হচ্ছে? এ বিষয়টি দেখতে হবে। প্রজেক্ট শেষ হয়ে গেলই যেন তা শেষ হয়ে না যায়। আমাদের গবেষণাগুলো আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজের পরিধি যেভাবে বেড়েছে সেভাবে জনবল বাড়েনি। তবে শিগগিরই ১০০জন বিজ্ঞানী নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে বিজ্ঞানীর ঘাটতি কমবে বলে আশা করি।
দুইদিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন মৎস্যগবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, খামারীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। কর্মশালায় মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ৫০টি গবেষণা-প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন এবং বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রস্তাবের সমন্বয়ে গঠিত এসব পরিকল্পনা-প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্টরা একটি বার্ষিক গবেষণা-পরিকল্পনা-প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা দেবেন।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ