গুজব বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকারের

বিভ্রান্তিকর খবর ও গুজব রুখতে ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতে যারা এই সব সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে সরকার। ফেসবুক এবং হোয়াটস অ্যাপকে ব্যবহার করে খুন  বা অশান্তির মতো ঘটনা রুখতেই এমন পদক্ষেপ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ আমলা।
 
ভারতে হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় 20 কোটি। হোয়াটস অ্যাপকে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, কোন মেসেজ কে পাঠাচ্ছে তার উপর নজরদারি রাখতে। তাতে রাজি হয়নি হোয়াটস অ্যাপ। পাশাপাশি এ ব্যাপারে একজন আধিকারিকও নিয়োগ করার কথা বলেছিল মোদী সরকার। সেটিও মানেনি মেসেজিং অ্যাপটি। এই বিষয়ে দেশের সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে।
 
পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতে কাজ করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রধানরা যদি বিভ্রান্তি বা ঘৃণা ছড়াতে বন্ধ করতে না পারেন তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
জানা গেছে, গণপিটুনিতে হত্যা বন্ধ করতে তৈরি কমিটি এমন সুপারিশই করেছে। এই কমিটির প্রধান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এখন সরকারি ভাবে ঘোষণা না দেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিজদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এনডিএ সরকার। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করেছে সরকার। তা বাস্তবায়ন হলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াতে থাকা যেকোন বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলে তা মুছে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কেন্দ্র।
 
এ ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে আলাদা ওয়েব  পোর্টালও খোলা হয়েছে। সিসিপিডব্লুসিকে ব্যবহার করে যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারবেন।। উল্লেখ্য, ভারতে এ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কারণে অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানী হয়েছে। এরপরই তৎপর হল সরকার। ছেলে ধরা সন্দেহে বা অন্য কোনও কারণে গণপিটুনিতে যাতে প্রাণ না যায় তার জন্য কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। -এনডিটিভি
 
ইত্তেফাক/ জেআর