আদভানিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জে আমিত শাহ

গুজরাটের গান্ধীনগরে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি জিতেছিলেন ৪ লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে। এবারের নির্বাচনে সেই ব্যবধান ছাড়িয়ে যাওয়াটাই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদভানির চেয়ে বেশি ভোটে না জিততে পারলে দলের ভেতরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে অমিত শাহের নেতৃত্ব।

গান্ধীনগর আসনটি অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকেই প্রায় ২ লাখ ভোটে জিতে ভারতের বিরোধী দলের নেতা হয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল থেকে টানা ৫ বার জিতেছেন লালকৃষ্ণ আদভানি। প্রতিবারই বড় ব্যবধানে জিতেছেন তিনি। এবার আদভানিকে সরিয়ে এই আসনেই লড়ছেন অমিত শাহ। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় কংগ্রেসের সি জে চাভদা। গান্ধীনগরের বাসিন্দারা বলছেন, ১৯৮৯ সাল হতে এই আসন থেকে জিতে আসছেন লালকৃষ্ণ আদভানি। ১৯৯৬ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী। তারপর ফের আদভানি। এবার অমিত শাহ। মোদির পর তো তিনিই একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন! তাই অমিতকেই ভোট দেওয়া হবে। জাতীয় কংগ্রেস মুখে বলছে, এই আসনে তারা জিতবে। বলার কারণ ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এই আসনে জয়ের মার্জিন অনেকটাই কমেছে। এই লোকসভা আসনের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২টিতে জিতেছে তারা।

এবারো এই আসনে জয় নিয়ে চিন্তা করছে না বিজেপি। বিজেপির গুজরাট শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত ভালা বলেন, জয় সমস্যা নয়। সমস্যা হলো ব্যবধান বাড়ানো। গতবার আদভানি ৪ লাখ ৮৩ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এবার অমিত শাহ ৫ লাখের বেশি ব্যবধানে জিতবে আশা করি।

অমিত শাহের সঙ্গে গান্ধীনগরের সম্পর্কটা বেশ পুরনো। ১৯৮২ সালে তিনি এই আসনেরই একটি বুথে ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন। এক সময় জনসঙ্ঘের প্রচারক ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিও। তাই গান্ধীনগরের বাসিন্দারা আশা করছেন, অমিত শাহ ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।