রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল সভাপতির বাড়িতে পদবঞ্চিতদের হামলা, ভাঙচুর

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের ৯টি ইউনিটের নতুন কমিটি (৩টি কলেজ ও ৬টি থানা) ঘোষণার পর থেকে নিজেদের মধ্যে একের পর এক হট্টগোল চলছেই। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির বাড়িতে পদবঞ্চিতরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। বিকেল ৩টায় মহানগর ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পর প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ আগস্ট) রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবির অনুমোদনে মহানগরীর ৩টি কলেজ ও ৬টি থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে অযোগ্য ও অছাত্রদের অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা।
 
পরদিন রবিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় পদবঞ্চিতরা। কিন্তু বিকেলেই তালা ভেঙ্গে নতুন কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও অন্যান্যরা মিলে পরিচিতি সভার আয়োজন করেন। ওই সভায় পদবঞ্চিত নেতাদের আহ্বান করা হলেও তারা উপস্থিত হননি।
 
অভিযোগ উঠেছে, সভা চলাকালীন নবগঠিত কমিটির রাজপাড়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম রাতুলের উপর হামলা করে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি ও সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভসহ অন্যান্যরা। এ সময় রাতুলসহ কয়েক ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হন। পরে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
 
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নাশকতার মামলার হাজিরা দিতে আদালত চত্বরে যান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ অন্যান্য নেতারা। 
 
অভিযোগ উঠেছে, আগের ঘটনাপ্রবাহের জের ধরে আদালত চত্বরে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সামনেই স্থগিতকৃত রাজপাড়া থানার ছাত্রদলের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম রাতুলসহ কয়েকজন মিলে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি ও বোয়ালিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক লুকেনের উপর হামলা চালান।
 
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ মহানগর ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্ত্তুজা ফামিন, যুগ্ম সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি ও সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ ও তাদের অনুসারীরা অংশ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির আসাদুজ্জামান জনি অভিযোগে বলেন, রবিবার (১৯ আগস্ট) নতুন কমিটির পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে জ্যাকি, সৌরভসহ অনেকে দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই রাজপাড়া থানার সম্পাদক রাতুলকে মারধোর করেন।
 
বৃহস্পতিবার আদলতে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা হাজিরা দেন। সেখানে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে আমি সেখানে ছিলাম না। শুনলাম আদালত চত্বরে মারামারি হয়েছে। এ খবর পেতে না পেতেই আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্ত্তুজা ফামিন, যুগ্ম সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি ও সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ ও তাদের অনুসারীরা।
 
এদিকে ছাত্রদল নেতাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ের কোন এক বিএনপি নেতার ইন্ধনে ছাত্রদলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে একের পর এক প্রতিহিংসা ও ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন নেতারা। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ছাত্রদলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এসব অপকর্ম চলছে বলেও জানান তারা। তবে হামলার বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ বলেন, ছাত্রদল সভাপতির বাড়িতে হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আদৌ কোন ধরণের হামলা হয়েছে কিনা তা আমি বলতেও পারবো না।
 
জানতে চাইলে যুগ্ম সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি বলেন, মহানগর বিএনপির নেতাদের সামনেই আমাকে এবং বোয়ালিয়া থানার সাবেক সম্পাদক লুকেনের উপর হাতুরি, ইট ও ছুরি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। মহানগর বিএনপির সম্পাদক মিলন ভাই না ধরলে আমার প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল।
 
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পদকের ইন্ধনেই ওই হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি