বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে ইভিএম মেশিন কেনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। নির্বাচনকে দুর্গম করার জন্য এই ইভিএম প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। সিদ্ধান্তের আগেই ইভিএম কেনার তোড়জোড় ভয়াবহ ষড়যন্ত্র স্পস্ট। এবার যতই ইভিএম পদ্ধতির চেষ্টা করেন, যতই মিথ্যাচার করতে থাকেন কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন প্রস্তুত হয়েছে এই সরকারের অবসান ঘটাতে এবং সেই অবসান আসবে জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে, নিরপেক্ষ সরকার হবে, সংসদ ভেঙে দিয়েই নির্বাচন হবে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইয়ুথ ফোরামের আয়োজনে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, জাতীয় সংকট সমাধানে একমাত্র পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির আহমদ আযম খান,আবু নাছের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
মওদুদ বলেন, সংবাদপত্রে দেখলাম তিন হাজার ৮৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ বিরাট ষড়যন্ত্র। হঠাৎ করে এই রকম পদক্ষেপ মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্রেগ করেছে। যেখানে বিএনপি ইভিএমের নিয়ন্ত্রক দলীয় নির্বাচন কমিশনকেই মানে না সেখানে ইভিএমকে কীভাবে মানবে? যে দেশে মেশিন হ্যাকিং করে পাচার করা যায়, সেই দেশে মেশিনে ভোট নিরাপদ হবে কীভাবে। এতো সিকিউরিটির মধ্যে হ্যাকিং করে টাকা নিয়ে যেতে পারে, তারপর এই মেশিন নিয়ন্ত্রণ করবে কে? পাসওয়ার্ড কার কাছে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে? প্রধান নির্বাচন কমিশনে আমাদের আস্থা নেই। আমরা ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করি। তাদের এই প্রস্তাব দেশের সর্ববৃহৎ দল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছি।
মওদুদ বলেন,আমরা এই ইভিএম পদ্ধতি মানি না।এখানে দুর্নীতি জড়িত, বিজনেস ব্যবসার কমিশন এখানে জড়িত। যেখানে আমাদের ইভিএমের বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, এটা পরিচালনার জন্য ম্যানপাওয়ার নাই। গ্রামের মানুষ এটা ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়, ভোট কোন বাক্সে পড়বে জানি না।
মওদুদ বলেন, যদি কোনো প্রার্থী ভোট পুনর্গণনা চান, আইনে তো আছে। মেশিনে ভোট হলে ভোট পুনর্গণনা কী করে করা যাবে? সেটা অসম্ভব। মেশিনে কোনো বিবাদ দেখা দিলে? পুনর্গণনা কী করে হবে, তার ব্যবস্থা নাই। এই মেশিন যা বলবে সেটাই মেনে নিতে হবে। হ্যাকিং হলে কী করে জানা যাবে। সুতরাং এই সিস্টেমে মানুষের আস্থা নাই।
বিশ্বে বিভিন্ন দেশে এই সিস্টেম তুলে দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মওদুদ বলেন, জার্মানিতে এই সিস্টেম তুলে দেয়া হয়েছে। ইতালি, আয়ারল্যান্ড এমনকি ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে এই পদ্ধতি। ভারতে ৭৩% মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইত্তেফাক/এমআই