চাটমোহরে নৌকা ডুবি, ৩ লাশ উদ্ধার

চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল বিল এলাকার পাকপাড়া কাটাজোলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় পিকনিকের নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ এক শিশু ও দুই মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।
 
এরা হলেন- ঈশ্বরদী ডাল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আ. বেলাল গণির স্ত্রী মমতাজ পারভীন শিউলী (৩০), ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন (৩০) ও ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাসের মেয়ে সাদিয়া বিশ্বাস (১২)।
 
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ঈশ্বরদী ডাল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আ. বেলাল গণি ও ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাস। ডুবে যাওয়া নৌকার ভেতর থেকে শাহনাজ পারভীন ও উপজেলার নিমাইচড়া বিল খেকে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকা ডুবির ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
 
এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাওসার আলী (১৪) নামের একজনকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত ও নিখোঁজ সবাই নৌকার ভেতর ছিলেন বলে অন্য যাত্রীরা জানান। আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি কুষ্টিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায়।
 
পিকনিকের নৌকার যাত্রী কুষ্টিয়ার ভাদালিয়া গ্রামের সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী সিনথিয়া পারভীন জানান, কুষ্টিয়া ও ঈশ্বরদী এলাকার ২৪ জন ব্যক্তি চলনবিল এলাকায় পিকনিকের উদ্দেশ্যে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রিজ থেকে একটি নৌকা ভাড়া করেন। দিনভর বিল অঞ্চলে ঘুরে সন্ধ্যায় ফেরার পথে উপজেলার হান্ডিয়াল বিল এলাকার কাটাজোলায় কোন কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে নৌকাটি ডুবে যায়।
 
নৌকা যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের নৌকা ও লোকজন ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে। অনেকে সাঁতরিয়ে তীরে উঠে আসেন। নৌকা ডুবির ঘটনায় এক শিশুসহ ৫ জন নিখোঁজ হয়। রাতেই রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরিরা মমতাজ পারভীন শিউলীর লাশ উদ্ধার করে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত অন্য দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
ঘটনার পরপরই চাটমোহর পুলিশ ও চাটমোহরের ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চাটমোহর থানার ওসি (প্রশাসন) মো. বদরুদ্দোজা বাবু ও হান্ডিয়াল ইউপি চেয়ারম্যান কেএম জাকির হোসেন নৌকা ডুবির ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ডুবে যাওয়া নৌকা।  
 
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার ছাইকোলার জিয়ালগাড়ি বিলে নৌকার ছইয়ের উপরে থাকা একই পরিবারের ৩ জন বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত হন। আহত হন নারীসহ অপর ৬ জন।
 
নিহতরা ছিলেন- সদর উপজেলার রানীগ্রামের মো. আফজাল হোসেন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহান হোসেন। এরা ঈদুল আজহার পরদিন চলনবিলে নৌ-ভ্রমণে এসেছিলেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি