সিলেটে কুয়েত প্রবাসী ও আওয়ামী লীগ কুয়েত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। নিহতের নাম এস এম আব্দুল আহাদ। তিনি পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনগর প্রতিনিধি ছিলেন। শুক্রবার ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরের জিন্দাবাজারের তাঁতিপাড়া গলির মুখে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত এস.এম আব্দুল আহাদ মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার করিমপুর মেদিনী মহলের নুর মিয়ার ছেলে।
সূত্রে জানা যায় , শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে ৫/৬ জনের একদল দুর্বৃত্ত আব্দুল আহাদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল আহাদ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভায় যোগ দিতে তিনি সিলেট এসেছিলেন। কর্মসূচী শেষ করে শুক্রবার রাতে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। শুক্রবার সিলেটের সার্কিট হাউসে ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে ও আহাদ উপস্থিত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একান্ত আলাপ ও বৈঠকে মিলিত হন বলে সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত রক্তকরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কারা এবং কেন তাকে খুন করেছে সে বিষয়ে জানা যায়নি।
ওসি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরির্শন করেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ওসমানী হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষসহ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।
প্রবাসী এই নেতার খুনের ঘটনায় বৃহত্তর সিলেটের আওয়ামী লীগ পরিবারসহ সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়েরা মহসীন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিসবাউর রহমান, পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকার ভার প্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন, নির্বাহী সম্পাদক এস এম উমেদ আলী, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ আব্দুল মোসাব্বির, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, দৈনিক বাংলারদিন পত্রিকার সম্পাদক বকসী ইকবাল আহমদ, প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমিন।
এক শোক বার্তায় মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়েরা মহসীন এমপি বলেন, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে আব্দুল আহাদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল তার। আহাদের মতো একজন ত্যাগী নেতা এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন এটা মেনে নেয়া কষ্টকর।
তিনি বলেন, আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সেইসঙ্গে ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে দ্রুত সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ইত্তেফাক/নূহু