সায়েদা হত্যাকাণ্ডের মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ

রংপুরের বদরগঞ্জে সায়েদা বেগম নামে এক গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ায় অপচেষ্টা চলছে বলে মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও ওই মামলা তুলে নিতে বাদী ও বাদীর পরিবারকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। 
 
রবিবার দুপুরে বদরগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে লিখিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের ভাতিজা ও মামলার বাদী মমিনুল ইসলাম। ওই সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। 
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সায়েদা বেগমের ছেলে সাইদুল ইসলাম, তার স্ত্রী লাইলী বেগম, নাতি হামিদুল হক, ভাই অহিদুল হক, ছোট বোন জাহেদা ও রসেনা বেগমসহ প্রায় ৩০ জন আত্মীয়স্বজন। এ সময় নিহতের আত্মীয়স্বজন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।  
 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ১৫ অক্টোবর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার ফুপু সায়েদা বেগমকে (৫৭) প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জামায়াত শিবির নেতা ইউনুছ, তাজকুল ও মতিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক। ওইদিনেই ইউনুছকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নামে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করি। কিন্তু ঘটনার দিন পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করলেও আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।  এখন আমার ফুপুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারের করতে পুলিশের কোন তৎপরতা নেই। এতে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আসামিরা পুরনো একটি ঘটনার ভিডিও চিত্র নিয়ে পুলিশকে দিয়ে নিজেরা মামলা থেকে রেহাই পেতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। 
 
বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি ধরেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীনুর আলম। ওই মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক ঘটনা উদ্ঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামিরা গা ঢাকায় দেয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ