'১৫ দিনের কোর্স করে' ডাক্তার, প্রতারিত হচ্ছেন এলাকাবাসী

ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসায় দুটি চোখের আলো হারাতে বসেছেন আসমা পারভীন (৪০) নামের এক বিধবা। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সজিব উদ্দীন স্বাধীনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসমা উপজেলার চেংগাড়া গ্রামের মাদরাসা পাড়া এলাকার মৃত আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।
 
'১৫ দিনের একটি কোর্স' করে নামের আগে ডাক্তার লিখে ওই এলাকার শরিফুল ইসলাম হাজার হাজার লোকের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। আর তার অপচিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী।
 
তার ছেলে সোহাগ বলেন, মায়ের সারা শরীরে ব্যথা ও রাতে জ্বর আসার কারণে গত ২৮ আগস্ট বিকালে বামন্দী ফাইভ স্টার ফার্মেসি ও আইডিয়াল ক্লিনিকে নিয়ে যাই। ক্লিনিকের মালিক ডা. মো. শরীফুল ইসলাম তিনশ টাকা নিয়ে বেশ কিছু ওষুধ লিখে দেন। ওষুধ খেয়ে মার মুখমণ্ডল ফুলে ওঠে। আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর আবারো তার কাছে নিয়ে গেলে কয়েকটি এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দেন। অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাই।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সজিব উদ্দীন স্বাধীন জানান, আসমার কিডনি জনিত সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ডাক্তার নামধারী শরিফুল ইসলাম তাকে ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন। অন্য রোগের বিভিন্ন ওষুধ দিয়েছেন। যে কারণে রোগী এখন চোখ হারাতে বসেছেন। রোগীকে রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ সোমবার পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তার কোন উন্নতি না হলে উপযুক্ত স্থানে রেফার্ড করা হবে।
 
ফাইভ স্টার ফার্মেসি ও আইডিয়াল ক্লিনিকের বৈধ কাগজপত্র ও তার ডাক্তারি কোন সনদ আছে কিনা জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম জানান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক চালান বিভিন্ন জায়গায় পয়সা দিয়ে। আর তার প্রেসক্রিপশনে ডা. মো. শরিফুল ইসলাম (এমএফএল) লেখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমি কুষ্টিয়া থেকে ১৫ দিনের একটি কোর্স করেছি।
 
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নাগের ডগায় এসব অনিয়ম চলছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জিকে সামসুজ্জামান জানান, বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি