চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীর ত্রিপুরা পল্লীতে হাম রোগে আক্রান্ত একই পরিবারের আরো তিনজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার বিকালের দিকে তাদের পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ উদালিয়ার সোনাইরকুলের দূর্গম ত্রিপুরা পল্লীর ৩ বছর বয়সী শিশু গীতা রানী ত্রিপুরা তার ছোট বোন শুভ রানী ত্রিপুরা (১) এবং তাদের মা চম্পা ত্রিপুরা (২৩) স্বামী-প্রেম কুমার ত্রিপুরা গত (২৬ আগস্ট) রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়। পরে সুস্থ হয়ে গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার মাত্র ২ দিনে পর আবারও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হয়।
এদিকে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র পেয়ে ঝর্ণা ত্রিপুরা (৩), সুকান্দ ত্রিপুরা (৩), লক্ষণ ত্রিপুরা (৩), ইমা ত্রিপুরা (৮মাস), শিমুল ত্রিপুরা (৫), সুনিল ত্রিপুরা (৮) এবং গুমাধন ত্রিপুরা (৭) এবং গত বৃহস্পতিবারও ঐ পল্লীর ৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে তাদের বাসায় ফিরে গেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সৈয়দ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন সত্যতা স্বীকার করে জানান, টিকা দেওয়ার পর শরীরে জ্বর আসতেই পারে। এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্য ২৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য,হাটহাজারী উপজেলার ত্রিপুরা পল্লীতে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার ২৬ আগস্ট সকালে অন্ন বালা ত্রিপুরা (৭), ২৪ আগস্ট শুক্রবার সম রায় ত্রিপুরা (৩) এবং মঙ্গলবার ২১ আগস্ট একই দিনে অন্ন রায় ত্রিপুরা (৫) ও কিশা মনি ত্রিপুরা (৩)নামের দুই শিশু সহ মোট চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরো ৩২ জন হাম ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সোনালী ত্রীপুরা (৫), গোপাল ত্রিপুরা (২), মেনশন চাকমাসহ (৪) তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রামস্থ সীতাকুন্ডের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশন ডিজিজে (বিআইটিআইডিতে) স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ইত্তেফাক/নূহু