টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু-সেতুর পূর্ব এলাকায় চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিক দ্বারা ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী নারীকে তার স্বজনদের হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী নারীকে আদালতের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে তার ভাইয়ের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন।
এদিকে সোমবার ভোরে কালিহাতী উপজেলার বেনুকুর্শা গ্রাম থেকে ওই বাসের সুপারভাইজার এরশাদ ওরফে বিশুকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিন দুপুরেই বিশুর ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত মঙ্গলবার তার রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে স্বজনরা টাঙ্গাইল কারাগারে গিয়ে নিরাপত্তা হেফাজতে তার সঙ্গে দেখা করে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রতিবন্ধী নারীর ভাইয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট শাহিন সিদ্দিকী আদালতে বোনকে ভাইয়ের জিম্মায় দেয়ার জন্য আবেদন করেন।
অ্যাডভোকেট শাহিন সিদ্দিকী জানান, ওই নারীকে তার ভাইয়ের হেফাজতে দেয়ার জন্য রোববারই তারা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখেন। সোমবার টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামানের আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত বসার পর পরই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্রতিবন্ধী নারীকে তার ভাইয়ের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন আদালত।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবন্ধী ওই নারীকে পরিবারের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস যাত্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। তবে বাস-স্ট্যান্ডে অন্যান্য যাত্রীরা নেমে গেলেও গাড়িটিতে বসা ছিল প্রায় ২৮ বছরের এক প্রতিবন্ধী নারী। ফাঁকা বাসে ওই নারীকে পেয়ে পালাক্রমে বাস চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার তাকে ধর্ষণ করে।
ইত্তেফাক/বিএএফ