রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নববধূ সুইটির মৃত্যরহস্য উদঘাটন হয়নি। নিহত নববধূর পরিবারের অভিযোগ গ্রহন না করে মৃত্যর ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা দায়ের করে তদন্ত করছে পুলিশ। নিহত সুইটির স্বামী শাওনকে ঘটনার পর আটক করলেও জিজ্ঞাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে তারা পুলিশের বিরুদ্ধে।
এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহত সুইটির পিতা শাহিন মেম্বার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করে আসছিল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতন সইতে না পেরে একমাস আগে সুইটি তার পিতার বাড়ি চলে আসে। গত শনিবার প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র উপ-পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিকের মধ্যস্থতায় সুইটিকে নিয়ে যায় তার স্বামী শাওন হোসেন।
গত রবিবার সকালে সুইটি তার মায়ের মুঠোফোনে কথা বলছিল। এ নিয়ে সুইটিকে স্বামী শাওন হোসেন মারধর করে। শাহিন মেম্বার আরো অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সুইটিকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে রাজাবাড়ী এলাকার সেলিম হোসেনের বাড়ির একটি ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুইটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর হত্যার অভিযোগ এনে থানায় একটি এজাহার দায়ের করে নিহত নববধূ সুইটির পিতা শাহিন মেম্বার। কিন্ত থানা পুলিশ হত্যার অভিযোগে এজাহারটি গ্রহন না করে ইউডি মামলা দায়ের করেছে বলে শাহিন মেম্বার অভিযোগ করেন।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত নববধূ সুইটির পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা নববধূ সুইটি আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে সুইটির মৃত্যর ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা।
প্রসঙ্গতঃ ৬ মাসে আগে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও জগপুর গ্রামের শাহীন উদ্দীনের মেয়ে সুইটির সঙ্গে বিয়ে হয় রাজাবাড়ী গ্রামের সেলিমে হোসেনের ছেলে ও মহি চেয়ারম্যানের নাতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে শাওন হোসেন। সুইটির স্বামী শাওন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
ইত্তেফাক/নূহু