পুলিশের হাতে ধরা পড়েও বেরিয়ে গেল সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি। সোমবার আটকের পর মঙ্গলবার দুপুরে জামালউদ্দিন নামের ওই আসামিকে ছেড়ে দেয় সদর থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, জামালউদ্দিনকে ভুল করে ধরা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জানান, ২০০১ সালের ৪ নভেম্বর রাতে তার সহোদর ভাই মাহবুবার রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার লাশ পানিতে ফেলে রাখে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা করেন (সেশন কেস ৭৪/২০০৪ ও জিআর কেস ৫৪৯/২০০১)। এ মামলার আসামি কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের পাচু গাজির ছেলে মো. জামালসহ ১১ জন। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছে, পাঁচজন জেল খেটে জামিনে রয়েছেন এবং চারজন পলাতক রয়েছে। জামালউদ্দিন পলাতকদের মধ্যে একজন। জামাল ঘটনার পর থেকে কখনও ভারতে, কখনও অন্য কোন এলাকায় পালিয়ে থাকত। সম্প্রতি সে তার দ্বিতীয় বাড়ি সদর উপজেলার তলুইগাছায় এলে পুলিশ খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় ২০ ঘণ্টা থানায় আটক থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জানান, তিনি মামলার যাবতীয় কাগজপত্র পুলিশের কাছে দিয়েছেন। এমনকি একজনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দীর কপিও রয়েছে পুলিশের কাছে। তারপরও তাকে ছেড়ে দেওয়া দুঃখজনক। বিষয়টি তিনি আদালতের বিচারকের দৃষ্টিতে আনবেন বলে জানান।
স্থানীয়রা জানান, জামালউদ্দিন কয়েকটি খুন, ডাকাতি, ছিনতাই চোরাচালান মামলার আসামি। তার দাপটে এলাকায় টিক থাকা দায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই জিয়ারুল ইসলাম জানান, জামালউদ্দিনকে আমরা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ধরেছিলাম। পরে থানায় সার্চিং দিয়ে তার নামে কোন মামলা পাওয়া যায়নি। এজন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ