জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ডলফিন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় ধরলা নদীতে জেলেদের জালে এক বিশাল আকৃতির ডলফিন (শুশুক) ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার বিকালে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর (দ্বিতীয় ধরলা সেতু) প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে গভীর পানিতে প্রায় আড়াই মন ওজনের (একশ’ কেজি) এ ডলফিনটি ধরা পড়ে। 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধরলা সেতুর এক কিলোমিটার পশ্চিমে নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন সদর উপজেলার কাঠালবাড়ি ছিনাই এলাকার হাড্ডু মিয়াসহ একদল জেলে। জাল টেনে কিনারে নিয়ে আসার এক পর্যায়ে ডলফিনটি লাফালাফি শুরু করে। পরে সকলে মিলে ডলফিনটি নৌকায় তোলে। ডলফিন (শুশুক) ধরা পড়ার খবর ধরলা তীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা দেখার জন্য নদীর পাড়ে জনতার ঢল নামে।
 
জেলে সর্দার হাড্ডু মিয়া (৪৮) জানান, শুশুকটি (ডলফিন) আমরা বিক্রি করবো। এর তেল বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। শুশুকের তেল প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
 
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে ধরলা নদীতে নির্মল বিশ্বাস নামে এক জেলের জালে দুটি ডলফিন ধরা পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ডলফিন জেলেদের জালে ধরা পরলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি।  
 
এ বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুন্নবী মিঠু জানান, আমাদের বিভাগের আইনে ডলফিন বা শুশুক সংরক্ষণের ব্যাপারে কোনও নির্দেশনার উল্লেখ নেই। তারপরেও জেলেদের জালে আটক ডলফিনটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পানিতে অবমুক্ত করা আপনার এবং আমার সবার দায়িত্ব। তবে আমি একটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আছি। উপজেলায় থাকলে আটক ডলফিনটি ধরলার পানিতে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতাম।  
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, জেলেদের জালে আটক ডলফিনটি উদ্ধার করে ধরলা নদীতে অবমুক্ত করা জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 
 
এ ব্যাপারে শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাহার আলী জানান, জেলেদের জালে ধরা পড়া ডলফিনটির বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ